বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

স্বপ্ন দেখাচ্ছে গোবিন্দগঞ্জের এ্যমব্রয়ডারী ও পাটজাত পণ্য

স্বপ্ন দেখাচ্ছে গোবিন্দগঞ্জের এ্যমব্রয়ডারী ও পাটজাত পণ্য

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধার সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের মধ্যেমে গোবিন্দগঞ্জের দরিদ্র নারীদের এ্যমব্রয়ডারী ও পাটজাত নানা পণ্য তৈরীতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে উপজেলার পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। প্রশিক্ষণ নিয়ে অভাবি ও সুবিধা বঞ্চিত নারীরা নিজেরাই নানা ধরণের পণ্য তৈরী ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দারিদ্রতা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু তৈরী পণ্যের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় এ আয়ের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা নিজেদের পণ্য বাজারজাতের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চায়। এজন্য তারা তৈরি পণ্যের বাজারজাতকরণে চায় সরকারি সহযোগিতা। হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ নিতে আসা বিধাবা ও বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার নারী সহ স্বল্প আয়ের পরিবারের নারী এবং অচ্ছল পরিবারের স্কুল কলেজে পড়–য়ারাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পিছিয়ে পড়া জেলা হিসাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)’র আওতায় সরকার গাইবান্ধার সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের মধ্যেমে দরিদ্র নারীদের এ্যামব্রয়ডারী ও পাটজাত নানা পণ্য তৈরীতে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ পাওয়া নারীরা নিজেদের পণ্য তৈরী ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দারিদ্রতা জয় করে স্বাবলম্বী হতে চায়। পরিবারে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিজেদের অবদান রাখতে চায়। বিআরডিবির তত্বাবধানে প্রশিক্ষক ৩ জন প্রশিক্ষক তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ নিতে আসা নারীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্য তৈরিতে পারদর্শি করে তুলছেন। প্রশিক্ষনার্থী জাহানারা বেগম বলেন, তারা পরিবারের গৃহস্থালী কাজের ফাঁকে তারা এসব পণ্য তৈরীর কাজ করে বাড়তি আয় করতে পারবে। এ আয় নিজেদের দারিদ্রতা দুর করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। কিন্তু নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারকরণের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই বাজারজাতের মাধ্যমে বাজার সৃষ্টিতে সরকারি সহযোগিতা দরকার।
রেহেনা খাতুন বলেন, আগে ঘরে বসে গল্প গুজব করে অলস সময় পার করতাম। কিন্তু প্রশিক্ষণ গ্রহণের দিন থেকে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। সময় পেলেই হস্ত শিল্পের কাজ করি। পাপস, পাটের ব্যাগ, সৌখিন ভ্যানেটি ব্যাগসহ অনেক জিনিস তৈরী করতে শিখেছি।
প্রশিক্ষণার্থী কলেজে পড়–য়া রুমা খাতুন পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ শিখছেন পিতার অভাবি সংসারে ভার কমানোার জন্য। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় সরকারের গৃহীত নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যেশ্য সফলতা মুখ দেখছে না। এজন্য বাজারজাত করণের সরকারী সহায়তা প্রত্যাশা করছেন অংশ গ্রহণকারী ও প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে শুরু এই প্রকল্পে ৩টি ট্রেডে ৩৫টি নারী সমিতির প্রায় ১১৩৫ জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৯৪০ জন নারী নানা ধরণের সামগ্রী তৈরী করছেন। এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তৈরী করা হস্ত শিল্পের পণ্য সহজে বাজারজাতকরণে সহায়তা দেবে উপজেলা প্রশাসন। এতে বেকার নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। প্রয়োজনে উপজেলা সদরে একটি ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com