মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:২৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
সাদুল্লাপুরে ঝুকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার গাইবান্ধায় যুগান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন গোবিন্দগঞ্জ রংপুর ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন সাঘাটায় ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির মিলনমেলা রোগ পরীক্ষা নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে হেলথ প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ২ শিক্ষক আটক সুন্দরগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযানঃ গ্রেফতার ৩ পলাশবাড়ীতে মাদকসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার

সুন্দরগঞ্জে ৭৮টি ধানের চাতাল বন্ধ

সুন্দরগঞ্জে ৭৮টি ধানের চাতাল বন্ধ

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ অটো রাইস মিলের কারসাজি, মূলধনের অভাব, শ্রমিক সংকট, বরাদ্দ বিভাজনে খাদ্য গুদামের অনিয়মসহ নানাবিধ কারণে হাসকিং চাতাল ব্যবসা এখন বন্ধের পথে। অটো রাইস মিল এখন ধান ও চাল সংগ্রহের একমাত্র ভরসা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি অটো মিলসহ ১২০টি হাসকিং চাতালের মধ্যে এখন ৭৮টি চাতাল বন্ধ রয়েছে। চলতি মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য একটি অটো মিলসহ ৪১টি হাসকিং চাতাল খাদ্য গুদামের সাথে চুক্তি করেছে। চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অনেকটা পুরণ হলেও ধান সংগ্রহ হয়নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গত ২৩ নভেম্বর হতে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপজেলার সুন্দরগঞ্জ ও বামডাঙ্গা খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের লক্ষামাত্রা সাধারণ বরাদ্দ ৬৯০ ও অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ ৩৮১ মেট্রিক টন এবং ধানের লক্ষা মাত্রা ১ হাজার ১৭ মেট্রিক টন। রোববার পর্যন্ত চাল সংগ্রহ হয়েছে ৬১৭ মেট্রিক টন এবং এক কেজি ধানও সংগ্রহ হয়নি। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে চালের কেজি ৪৪ টাকা এবং ধান ৩০ টাকা।
অটো রাইস মিলের কারসাজি এবং মুলধনের অভাবে হাসকিং চাতাল ব্যবসা এখন বন্ধের পথে দাবি করেন উপজেলা চাতাল মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদৎ হোসেন আনন্দ। তার ভাষ্য সরকারের জনপ্রতিনিধি এবং আমলাদের সাথে গোপনে অটো রাইস মিল মালিকরা বরাদ্দ বাগিয়ে নিচ্ছে। সে কারণে হাসকিং চাতাল ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছে। বরাদ্দ না পাওয়ায় দিন দিন ব্যাংকে লোনের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় অনেক চাতাল ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরগঞ্জে একটি অটো রাইস মিল চাল বরাদ্দ পেয়েছে ৫০০ মেট্রিকটন আর ৪০টি হাসকিং চাতাল বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ৬০ মেট্রিক টন। এই বৈষম্যের কারণে চাতাল ব্যবসায়ীরা কিভাবে টিকে থাকবে।
উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের হক চাল এবং নাজমা চাল কলের মালিক শামসুল হক বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তিনি কোন বরাদ্দ পান না। ব্যবসা না থাকায় ব্যাংকে তার লোনের পরিমান দিন দিন বাড়তে থাকে। সে কারণর তিনি চাতাল বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারের লোকজনের সাথে অটো রাইস মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে সব বরাদ্দ তারা নিয়ে নিচ্ছে। হাসকিং চাতাল মালিকরা আর বরাদ্দ পাচ্ছে না। এছাড়া পুঁজি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকে চাতাল বন্ধ করে দিয়েছে।
উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের চাতাল মালিক এমদাদুল হক বলেন, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাগণ অটো রাইস মিল মালিকদের সাথে গোপনে আতাত করে বরাদ্দ তাদের নামে দিয়ে দেন। সে কারণে হাসকিং চাতাল মালিকগণ এখন ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ধান ও চালের বিল করতে গিয়ে ডিসি ফুড অফিস থেকে উপজেলা খাদ্যগুদামে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়।
তিন বছর ধরে চাতালের কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন চাতাল শ্রমিক দোলেনা বেগম। তিনি বলেন, মালিকের ব্যবসা না থাকায় সপ্তাহে ৪-৫দিন কাজ বন্ধ থাকে। তা দিয়ে সংসার চলে না, সে কারণে চাতালের কাজ ছেড়ে দিয়ে রাজ মিস্ত্রী জোগালির কাজ করছি। চাতাল ব্যবসা এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
অনেক চাতাল ব্যবসায়ীর সিসি লোন এখন বন্ধ রয়েছে জানান সোনালী ব্যাংক লিমিটেড শাখার ম্যানেজার আব্দুল হাদী। তিনি বলেন, অনেক সিসি লোন গ্রাহক দীর্ঘদিন হতে লেনদেন না করায় তাদের লোন খেলাপি হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কাইয়ুম খান জানান, ধান ও চালের বরাদ্দ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর হতে বিভাজন করা হয়। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কার্যালয় হতে শুধুমাত্র বিল প্রদান করা হয়।
অটো রাইস মিল হোপ-এ্যাগ্রো লিমিটেডের পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, হাসকিং চাল কল বা চাতাল মালিকরা এখন ধান ও চাল খাদ্য গুদামে দিতে পারে না। সে কারণে সরকার অটো রাইস মিলের মাধ্যমে ধান ও চাল সংগ্রহ করে থাকেন। হাসকিং চাতাল মালিকরা এখন পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাবিবুর রহমান জানান, সরকার কৃষকদের মাধ্যমে ধান নেয়র কথা বললেও কৃষকরা যথা নিয়মে খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারেন না। সে কারণে অটো মিলের মাধ্যমে চাল ও ধান সংগ্রহ করতে হচ্ছে। উপজেলার ১২০টি চাল কল বা চাতালের মধ্যে এখন ৭৮টি বন্ধ রয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com