মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে শিমের থোকায় কৃষকের স্বপ্ন

সুন্দরগঞ্জে শিমের থোকায় কৃষকের স্বপ্ন

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ছোট ছোট ফুল আর থোকা থোকা শিমে ভরে উঠেছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সবজি চাষীদের শিমের বাগান। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে শিমের। আর এই শিমের থোকাতেই স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। সামান্য জমিতে স্বল্প পুঁজি দিয়েই শিমের চাষ করা যায়। আর একটু পরিচর্যা করলেই বেশ মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। আষাঢ় মাসের শেষদিকে সারিবদ্ধভাবে গর্ত খুঁড়ে কিছু গোবর সার প্রয়োগ করে বীজ বপন করতে হয়। এরপর কিছুদিন সার সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচর্যা করে চারা গাছ একটু বড় হলে মাচাং বানিয়ে দিলে মাত্র আড়াই/তিন মাসের মধ্যেই বিক্রি করার মতো হয়ে যায় শিম। স্বল্প পুঁজিতে শিম চাষ করে সুন্দরগঞ্জের অনেকেই নিজেদের ভাগ্য বদল করতে সক্ষম হয়েছেন। এমনি একজন উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান। তিনি গত বছর ১৫ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল শিমের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শুধু বীজ উৎপাদনের জন্য রেখে বাকি ৭০ শতাংশ জমির শিম সবজি হিসেবে গত এক মাস ধরে বাজারে বিক্রি করছেন। কৃষক মিজানুর জানান, ৭০ শতাংশ বাগান থেকে প্রতি তিনদিন পরপর চার থেকে পাঁচ মণ শিম তুলছেন তিনি। প্রথম দিকে প্রতি মণ চার হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি করছেন প্রতিমণ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রথম দুই সপ্তাহের উৎপাদিত শিম বিক্রি করে তার উৎপাদন খরচ উঠে গেছে। এভাবে আরো এক থেকে দেড় মাস শিম আসবে তার বাগান থেকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ওই ৭০ শতাংশ জমি থেকে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি। এছাড়াও বাকি ৩০ শতাংশ জমির বীজ বিক্রি করেও অর্ধ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। সব মিলে এক একর জমি থেকে চলতি মৌসুমে দুই লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন তার। পাশের গ্রামের কৃষক মনছুর আলীর সম্বল বলতে মাত্র ৩০ শতাংশ জমি। যেখানে অন্য ফসলের সঙ্গে শীত মৌসুমে কয়েক বছর ধরে শিম চাষ করছেন। গত বছরও ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন শিম বিক্রি করে। কৃষক মনছুর আলী জানান, শীতকালে শিমের বেশ চাহিদা থাকে। তাই বাজারে এর কদরের সাথে বেড়ে যায় মূল্যও। বিক্রি করতে ঝামেলা নেই। পাইকারী ব্যবসায়িরা ক্ষেত থেকে শিম কিনে নেয় ন্যায্য মূল্যে। অল্প জমিতে বেশি মুনাফা পেতে শিম চাষের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি। শিম চাষ করে সেই টাকায় সংসার চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ মেটানোর পরেও প্রতি বছর জমি বন্দক নিচ্ছেন তিনি। অভাব নামক দানবকে বিদায় দিয়েছেন। তার অনুকরণে ওই গ্রামের অনেক চাষি এখন বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষ শুরু করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিমের বাম্পার ফলন হবে। শিম চাষীরা বেশ লাভবান হবেন বলেও আশা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com