বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:২৭ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পটি অচল বিশুদ্ধ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত জনগন

সুন্দরগঞ্জে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পটি অচল বিশুদ্ধ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত জনগন

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সুন্দরগঞ্জে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নলকূপের পানি পান করে। তবে গভীর নলকুপ হতে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে চন্ডিপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর বাজারে নির্মান হয় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্প। কিন্তু কয়েক বছর আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দুই এক বার পানি সরবরাহ করার পর বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় সুপেয় বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এলাকার কয়েকশত মানুষ।
জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর ও ছাপরহাটিতে এই বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্প দুটির কাজ শুরু হয় ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে। প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় ১৫ লাখ টাকা। যা বাস্তবায়ন করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি বাস্তবায়ন করা হয় চন্ডিপুরের পাঁচপীর বাজারের পশ্চিম-উত্তর কর্ণারে। যেখানে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য রয়েছে ৩টি ছাঁকনি, রয়েছে ছাঁকনি শেষে পানি গিয়ে পড়ার একটি বড় চৌবাচ্চা। এই চৌবাচ্চা থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করে রাখার জন্য রয়েছে বেশ বড় দুইটি ট্যাংক। এছাড়া রয়েছে পরিচালনার জন্য এটি পাকা ছাদ বিশিষ্ট ঘড়। পানি সরবরাহের জন্য বাজার ও এর আশেপাশের প্রায় দুই শতাধিক বাড়িতে স্থাপন করা হয় সরবরাহ লাইন। কিন্তু বছর কয়েক আগে কাজ শেষে ভোক্তাদের বাসাবাড়িতে দুই-একবার পানি সরবরাহ করা হলেও এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে প্রকল্পটি। এদিকে ছাপরহাটি ইউনিয়নের প্রকল্পটি কোথায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকল্পটির বিষয়ে ছাপরহাটি ইউপি চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী এর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। সরেজমিন দেখাগেছে,পাঁচপীর আয়রণ ও আর্সেনিক রিমোভাল প্লানটির দেয়ালে নেই কোন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা তথ্য। প্লান্টটির সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও গেটে নেই কোনো তালা, নেই রক্ষণাবেক্ষনের ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা জানায়, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে তা জানা নেই। দুই-এক বার পানি সরবরাহ করা হয়েছিল বটে, কিন্তু ঠিক কি কারণে সেটি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তাও অজানা তাদের।
চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন আমি নির্বাচিত হওয়ার আগের প্রকল্প এটি। তাই এ সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। এর আগে যোগাযোগ করা হলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জে ১০-১২ বছর ধরে এ ধরণের কোনো প্রকল্প নেই। কিন্তু পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সুন্দরগঞ্জের প্রকল্প সাদুল্ল্যাপুর জোনের অধীনে বলে জানান।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন ব্যয় ও তা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সাদুল্ল্যাপুরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসার শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এলাকায় নতুন, তাই প্রকল্পব্যয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। পাঁচপীর বাজারের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বন্ধ থাকার কারণ অতিরিক্ত আয়রণ রয়েছে। বন্ধ পানি সরবরাহ আবার চালু করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোক্তারা চাইলে তবেই তা সম্ভব।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com