শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ দূর্দশা লাঘবের জন্য চর উন্নয়ন বোর্ড করা দরকার -ডেপুটি স্পীকার প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণঃ ধর্ষক গ্রেফতার হেড ফোন কানেঃ ট্রেনের ধাক্কায় প্রান গেলে যুবকের দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়ে আনন্দিত ভিক্ষুক শুকুর আলী ধাপেরহাটে র‌্যাব ও ভোক্তা অধিকারের যৌথ অভিযান ৪ আলু ব্যাবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধাপেরহাটে ১০ দিনে ৭টি বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুঃসাহসিক চুরি গাইবান্ধায় তিনদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা সমাপ্ত ধর্ষণ মামলার আসামী মুক্তি পেয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি শহরের ডিবি রোড চলাচলের অযোগ্যঃ পথচারীদের দুর্ভোগ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান

সুন্দরগঞ্জে চরাঞ্চলের একমাত্র পরিবহন মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি

সুন্দরগঞ্জে চরাঞ্চলের একমাত্র পরিবহন মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন বঞ্চিত চরঞ্চলের পরিবহন মাধ্যম এক মাত্র ঘোড়ার গাড়ি। চরঞ্চলের জনগনের কাছে তাই ঘোড়ার গাড়ির কদর বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিস্তা নদীল চরে কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে যে কোন মালামাল পরিবহনের বাহন হিসেবে একমাত্র সম্বল ঘোড়ার গাড়ি। চরের খানা-খন্দে ভরা বালুময় রাস্তায় যেখানে ভ্যান, রিক্সা, ট্রলি, ট্রাক যেতে পারেনা সেই সকল রাস্তায় জন প্রিয় বাহন হিসেব ঘোড়ার গাড়ির কদর বেড়েছে। এ উপজেলার ২০ টি চরেই সিংহভাগ রবি শস্য উৎপাদন হয়। পাট ,আলু ,বাদাম , ভুট্টা, গম, ডাল এসব অর্থকারী ফসল পরিবহনে কৃষকরা ঘোড়ার গাড়িই ব্যবহার করছেন। কৃষকরা এখন তাদের উৎপাদিত ফসল ঘোড়ার গাড়িতেই হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। আর ফড়িয়া ব্যবসায়িদের কাছে কম মূল্যে ফসল বিক্রি করতে হয় না। উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষকরা একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন তেমনি কৃষি উপকরণ সার বীজসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করে ঘোড়ার গাড়ি করেই নিয়ে যাচ্ছেন। ঘোড়ার গাড়ির মালিকরাও অর্থ উপার্জন করে সুন্দর ভাবে সংসার চালাচ্ছেন। ঘোড়ার গাড়ি চালক আমজাদ হোসেন জানান প্রতিদিন গাড়ি দিয়ে ৭/৮ শত করে টাকা উপার্জন করা যায়। ঘোড়ার পিছনে দৈনিক এক থেকে দেড়শ টাকা খরচ হয়। বাকি টাকা তার দৈনিক আয় থাকে। নিজামখাঁ গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি চালক সাইদুর রহমান জানান বগুড়া, রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিকের কাজ করেও সংসার ঠিকভাবে চালানো সম্ভব হতো না। এখন ঠিকভাবে সংসার চালিয়ে আয় করতেছি ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে। এখন দাওয়াত খেতে শ্বশুর বাড়ি যাই ঘোড়ার গাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে। দৈনিক যে আয় হয় তাতে আর কারো মূখাপেক্ষি হতে হয় না । ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ ও জামা-কাপড় চাওয়ার আগেই দিতে পারতেছি। খোর্দ্দার চরের ঘোড়ার গাড়ি চালক শাহালম জানান যেখানে ইঞ্জিন চালিত কোন যানবাহন চলে না সেখানেও ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে নির্বিঘেœ ফসলাদি পরিবহন করছি। যার কারণে চরের কৃষকদের কাছে ঘোড়ার গাড়ি জনপ্রিয় একমাত্র পরিবহন মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে। এ উপজেলার বিভিন্ন চরে প্রায় ৫০০শ ঘোড়ার গাড়ি পরিবহন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বেলকা চরের কৃষক আনারুল ইসলাম জানান , ঘোড়ার গাড়িতে এখন ধান , পাট , গম , ভুট্টা ও শাকসবজি সরাসরি বাজারে নিয়ে বিক্রি করছি । তাতে দাম ভাল পাচ্ছি। ফড়িয়া ব্যরসায়ি আর আমাদের ঠকাতে পারছেনা । মোট কথা ঘোড়ার গাড়ি চরাঞ্চলবাসির পরিবহনের একমাত্র ভরসা।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com