শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে গম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

সুন্দরগঞ্জে গম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ সুন্দরগঞ্জে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ সেই সাথে প্রণোদনার বীজ ও সার পেয়ে গমচাষে এখন ঝুঁকছেন কৃষকরা। সে কারণে চলতি বছর গমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। লাভজনক ফসল হওয়ায় ধানের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এ ফসল উৎপাদন করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা। সে কারণে ধানের পাশাপাশি বেড়েছে গমের চাষ। উৎপাদন ও খাদ্যের দিক দিয়ে দানা ফসল হিসেবে গমের অবস্থান দ্বিতীয়। অর্থাৎ ধানের পরেই গমের অবস্থান। কম খরচে বেশী লাভ হওয়ায় গম আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি বছর ৯১৮ হেক্টর জমিতে গম চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৯২০ হেক্টর জমিতে। গমচাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০৫ জন কৃষককে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের জনপ্রতি ২০ কেজি উন্নত জাতের গমবীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হয়। এছাড়াও চাষিদের কৃষক দল গঠন, নতুন জাতের গমের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ, সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিণ প্রদান ও বালাই দমন এবং হাইব্রিড জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ফলে গম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এতে করে জেলায় এবার সর্বউচ্চ গমের আবাদ হয়েছে সুন্দরগঞ্জে।
সরেজমিনে গেলে কথা হয় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, এ বছরও বীজ এবং সার কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে পেয়েছি। হালও ছিলো নিজের। সে কারণে খুব একটা বেশি খরচ হয়নি। তাছাড়া স্যারেরা মাঝে মাঝে জমিতে এসে পরামর্শও দেন। আর এ কারণে গমের দানা খুব ভালো দেখা যাচ্ছে জমিতে। খুব ভালো হয়েছে আমার গমের আবাদ। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত গমের অনুকূলে এবং বাজারদর ভালো থাকলে গতবারের মতো এবারও ভালো দাম পাব ইন্শ আল্লাহ।
সোনারায় ইউনিয়নের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, এ বছর গমের দাম আশানুরূপ। ফলনও হয়েছে বাম্পার। লাভের আশা করছি আমরা। তাছাড়া কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছিলাম। সে কারণে এটা ছিলো আমার জন্য বাড়তি জোগান।
তারাপুর ইউনিয়নের কৃষক জগদীশ চন্দ্র বলেন, গম উৎপাদনে তেমন একটা খরচ নেই। তাছাড়া গম কেটে পাট চাষ করতে পারবো। সে কারণে ধানের চেয়ে গম লাভজনক। এবারে ৩ বিঘা জমিতে গমচাষ করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এবার প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ গম উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, এবার গমের দানা খুব ভালো এসেছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত গমের অনুকূলে এবং বাজারদর ভালো থাকলে গতবারের মতো এবারও ভালো দাম পাব।
কথা হয় কৃষক মুন মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় উৎপাদন খরচও কম হয়েছে। আল্লাহ কোনো বিপদ না দিলে ১১২ শতাংশ জমিতে ২৪-২৭ মণ গম হবে আশা করছি। আর তা ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবে বাজারে ইন্শা আল্লাহ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল কবির এ বিষয়ে জানান, রবি ফসলের মধ্যে গম একটি লাভজনক আবাদ। এ কারণে উপজেলার কৃষকেরা গম চাষে ঝুঁকেছেন। এবার বাম্পার ফলনের আশা করছি। তিনি আরও বলেন, গম চাষে আগ্রহী করতে তালিকাভুক্ত চাষিদের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল উন্নত জাতের বারি-৩৩ গম বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। গমচাষে গাইবান্ধা জেলায় এ বছর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এগিয়ে রয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com