মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ থাকলেও উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ নিরব

সুন্দরগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ থাকলেও উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ নিরব

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম হারুন-উর-রশিদ। শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন কিছু দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, উৎকোচ ছাড়া কোনো কাজ হয় না এ অফিসে। কোনভাবেই মিলছে না এর প্রতিকার। ধাপে ধাপে বাড়ছে তাদের উৎকোচ চাহিদা।
চলতি বছরের গত ১১ আগস্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ দূর্নীতি খবর প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্রিকায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। দিন দিন বেড়েই চলেছে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি । শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন-উর-রশিদ ও সহকারি শিক্ষা অফিসার বিপ্লব হাসান মদিনার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতসহ নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। টাকার বিনিময় তারা জুনিয়র শিক্ষক থেকে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি, শ্রান্তি বিনোদন ভাতার টাকা কর্তন, বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কারেরর কাজ সঠিকভাবে না করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, শিক্ষা কর্কমর্তা ও প্রধান শিক্ষকসহ যোগসাজশে পুরাতন লোহা দিয়ে গ্রিল তৈরি।
প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী, নুরেহিনা আক্তার, মাছুমা খাতুন, হাসিনা বেগম, আইয়ুব হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, শিরিনা বেগম, আমজাদ আলী, সহকারি শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসসহ অনেকেই অভিযোগ করেন। পশ্চিম শিবরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারের হাট খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোর্দ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাঠশালা পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ঘগোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনারায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ প্রায় ২০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র দেয়াসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ ধাপে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় উপজেলার ৯৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত বাবদ ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেই মেরামতের বরাদ্দকৃত টাকার সম্পন্ন কাজ না করে আংশিক কিছু কাজ দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা বিভিন্ন ক্লাস্টারের সহকারি কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে ১০ হাজার হতে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিচ্ছে। কাজের মেয়াদ জুন/২০২২ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ শেষ করে বিল ভাউচার জমা দিলেও তাদের টাকা ছাড়া বিলের চেক দিচ্ছে না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন-উর-রশিদ। বিধি মোতাবেক বিদ্যালয়গুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে বিল চেক দেয়ার কথা।
এদিকে শিক্ষকরা জানান, মেরামতসহ বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করে বিল তুলতে গেলে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হয় এবং কাজের মান যাচাই বাছাই না করে টাকা বিনিময় প্রত্যয়পত্র দিচ্ছে উক্ত অফিসের কর্মকর্তারাই। আর এই প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে অফিসকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পযর্ন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। আর অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন-উর-রশিদ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই শিক্ষা অফিসকে দুর্নীতি-অনিয়ম-ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত করেছেন।
এবিষয়ে ডিপিও মোঃ হোসেন আলী জানান, সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

 

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com