বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলে তামাক চাষে আগ্রহী কৃষকরা

সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলে তামাক চাষে আগ্রহী কৃষকরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় জীবনের ঝুকি জেনেও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকরা ফের তামাক চাষে ঝুকে পড়েছে। আজ থেকে পনের বছর আগে উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে তামাক চাষাবাদ হত। তখনকার পরিসংখ্যান মোতাবেক উপজেলায় ৩ হতে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষাবাদ হত। ২০১০ সালের পর থেকে উপজেলায় তামাক চাষাবাদ কমতে শুরু করে। ২০১৮ সালের পর থেকে উপজেলায় তামাক চাষাবাদ নেই বললে চলে। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে ফিরে দেখা তামাক চাষে ফের আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে উপজেলা কৃষি অফিস তামাক চাষাবাদের কোন তথ্য সংবক্ষণ করেন না। তখন থেকে আজ পর্যন্ত তামাক চাষাবাদের কোন পরিসংখ্যান নেই কৃষি অফিসে। চরের কৃষকদের তথ্যের ভিত্তিত্বে জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে তামাক চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় তামাকের আবাদও ভাল হয়েছে।
বেলকা কিশামত চরের বাদশা মিয়া জানান, দীর্ঘ চার বছর পর এবার ২ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছে তিনি। আজ থেকে ৭ হতে ৮ বছর আগে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে তামাক চাষাবাদ করত। তামাকে অল্প খচর কিন্তু অধিক লাভ। তিনি বলেন বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ তামাক চাষের পরিবর্তে সোয়াবিন, সূর্য্যমুখী, ভূট্টা চাষ করার পরামর্শ প্রদান করে আসছেন। সে কারনে গত ৪ হতে ৫ বছর তামাক চাষ করিনি। বর্তমানে তামাকের বাজারদর খুবেই ভাল সে কারনে তামাক চাষ করেছি। তবে তামাক পরিচর্যা করার শ্রমিক এখন আর পাওয়া যায় না। তিনি বলেন ২ বিঘা জমিতে তার খরচ হবে ৫ হাজার টাকা। যদি তামাকের ফলন ভাল হয় তাহলে তার লাভ হবে ৭০ হতে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতিমন তামাক গ্রেড অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার হতে ৮ হাজার টাকা।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা লিটন মিয়া জানান, এখন তামাক চাষাবাদ নেই বললে চলে। আজ থেকে ১০ বছর আগে বিশেষ করে চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে তামাক চাষ করত কৃষকরা। ২০১০ সালের পর থেকে তামাক চাষের পরিবর্তে ভূট্টা, সোয়াবিন, ডাল, সরিষা, সূর্য্যমুখী চাষাবাদ করছে চরের কৃষকরা। তামাক অত্যন্ত ক্ষতিকর ফসল সে কারনে তামাক চাষাবাদ হতে মুখ ফিরে নেয়ার জন্য কাজ করছে কৃষি অধিদপ্তর।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, তামাক চাষাবাদ একেবারে কমে গেছে। চরের কৃষকদের তামাক চাষাবাদ হতে অনাগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। তবে তামাক চাষাবাদের কোন পরিসংখ্যান নেই কৃষি অফিসে। টোবাকো কোম্পানিদের পরামর্শে গুড়ি কয়েক কৃষক তামাক চাষাবাদ করে আসছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com