বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
খোর্দ্দকোমরপুর ইউপির উপনির্বাচন স্থগিত কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিঃ গাইবান্ধায় আ’লীগ-বিএনপির অফিসে-হামলা-অগ্নিসংযোগ সুন্দরগঞ্জে কোটা নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সুন্দরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের লাশ একদিন পর উদ্ধার গোবিন্দগঞ্জে ২ মাহিলা ছিনতাইকারী গ্রেফতার মহিমাগঞ্জে প্রধান গ্রুপের সার্ভার স্টেশনে অগ্নিকান্ডে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি পলাশবাড়ীতে মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ঃ আহত ১ জন গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ তিস্তার পানি কমার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে পলাশবাড়ীতে মটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত

সাদুল্লাপুরে হাট-বাজারে গান গেয়ে জীবন চলে আমিরুলের

সাদুল্লাপুরে হাট-বাজারে গান গেয়ে জীবন চলে আমিরুলের

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান আমিরুল ইসলাম। বয়স সবেমাত্র ২০। কিশোর বয়স থেকে সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক তার। নিজস্ব যন্ত্রপাতি না থাকায় হাড়ি-পাতিল দিয়েই পথঘাট ও হাটে-বাজারে গাইতে থাকেন নানা প্রকার গান। এ থেকে দর্শকরা খুশি করে যান দেন, তা দিয়ে জীবিকা চলে আমিরুলের।
গতকাল বিকেলে সাদুল্লাপুর শহরের চৌমাথা মোড়ে দেখা হয় আমিরুলের। সেখানে গানের আসর বসিয়ে মধুর কন্ঠে গাইছিলেন গান। ‘এই দুনিয়াটা পুতুল খেলা’-এ গানটি পরিবেশন করছিলেন তিনি। তবে ছিলনা কোন বাদ্যযন্ত্র। ছিল একটি পাতিল। এটির মাধ্যমে চলছিল তার গানের আসরটি। মুহূর্তে মাতিয়ে তোলেন সঙ্গীতপ্রিয় মানুষদের।
জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের খানকাহ বাড়ি এলাকার হতদরিদ্র মফছেল আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম। ইচ্ছে থাকা শর্তেও দরিদ্রতার কষাঘাতে লেখাপড়া করতে পারেনি। আমিরুলের বয়স যখন ১৫, তখন মারা যায় পিতা মফছেল আলী। এরপর সংসারের হালধরতে হয় তাকে। কর্ম অভাবে তার মাকে নিয়ে থমকে যায় জীবনযাত্রা। এরপর শুরু করে বাদাম বিক্রি। এ দিয়ে কোনমতে চলতে থাকে জীবন-জীবিকা। এতে সংসারের চাহিদা অপ্রতুল হওয়ায় ওই ব্যবসার সঙ্গে যোগ করা হয় গান গাওয়া। তবে নেই কোনো বাদ্যযন্ত্র। বাদাম বিক্রির ফাঁকে বিভিন্ন হাট-বাজারে যন্ত্র হিসেবে পাতিল বাজিয়ে গানের আসর বাসায় তিনি। এমন কোনো গান নেই, সেটা জানা নেই তার। সব ধরণের গানই গাইতে পারেন মুধুর কন্ঠে। এই শিল্পী আমিরুলের গানের সুরে ছুটে আসেন মানুষেরা। এসময় ৫-১০ টাকা দেন অনেক দর্শক শ্রোতা।
গান উপভোগ করতে আসা হাসান আলী নামের এক দর্শক বলেন, বাদ্যযন্ত্র ছাড়া পাতিল দিয়ে বাজানো গান আমি শুনে মুগ্ধ হয়েছি। তার জন্য শুভ কামনা করছি।
কণ্ঠ শিল্পী আমিরুল ইসলাম জানান, এখনো বিয়ে করেননি তিনি। মাকে নিয়ে টানা পোড়েন সংসার। বাঁচার তাগিতে বেঁছে নেওয়া হয় বাদাম বিক্রি ও গান গাওয়া। এ থেকে দৈনন্দিন আয় হয় ৪০০-৫০০ টাকা। এ দিয়েই সংসার চলছে তার।
তিনি আরও বলেন, আমার নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র নেই। টাকার অভাবে কিনতে পারছি না। আমাকে কেউ যদি বাদ্যযন্ত্র কিনে দিয়ে সহযোগি করতেন, তাহলে গান গেয়েই ফিরে পেতাম সোনালী দিন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com