মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
সাদুল্লাপুরে ঝুকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার গাইবান্ধায় যুগান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন গোবিন্দগঞ্জ রংপুর ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন সাঘাটায় ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির মিলনমেলা রোগ পরীক্ষা নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে হেলথ প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ২ শিক্ষক আটক সুন্দরগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযানঃ গ্রেফতার ৩ পলাশবাড়ীতে মাদকসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার

সাদুল্লাপুরে নিরাপদ পানি পাচ্ছে না ৪৫ শতাংশ মানুষ

সাদুল্লাপুরে নিরাপদ পানি পাচ্ছে না ৪৫ শতাংশ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাদুল্লাপুর উপজেলায় অনেক নলকূপের পানিতে অধিক মাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিপুলসংখ্যক নলকূপে পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন। এতে নিরাপদ পানি পাচ্ছে না উপজেলার ৪৫ শতাংশ মানুষ। বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ২৬৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চিকিৎসকরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভাষ্য, নিরাপদ পানির জন্য আরও দু’বছর অপেক্ষা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আর্সেনিকের ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় এলাকার ২৭ হাজার ৫০০ নলকূপের পানি পরীক্ষা করেছে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রায় দেড় বছর ধরে এ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮২টি নলকূপে অধিক মাত্রায় আর্সেনিক মিলেছে। এগুলো লাল কালিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর্সেনিকের এ পরিমাণকে বিপজ্জনক বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শতকরা ৪০ শতাংশ নলকূপে মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন।
প্রতি লিটার পানিতে দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রামের নিচে আর্সেনিক থাকলে তাকে সহনীয় মাত্রার বলা যায়। এ তথ্য জানিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, এখানে গ্রহণযোগ্য মাত্রার অতিরিক্ত রয়েছে। এ কারণে ৪৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে। নিরাপদ পানির কার্যক্রম চলমান আছে।
আর্সেনিক ও আয়রনের কারণে দীর্ঘদিন নিরাপদ পানির সমস্যায় ভুগছেন উত্তর কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের আসাদুল হক এবং জয়েনপুরের মোজাফফর হোসেন ও মোস্তফা মিয়া। তারা জানান, প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্না ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করছেন। ইউপি সদস্য মোজাহেদুল ইসলামের ভাষ্য, দুই গ্রামে নিরাপদ পানির জন্য সরকারিভাবে গভীর নলকূপ ও ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। এখান থেকে ৪০ পরিবারকে পানি সরবরাহ করা হবে। সামান্য খরচে তারা এটি পাবে।
নদীর পানি শুকিয়ে গেলে, ভূ-গর্ভস্থ্য পানিতে চাপ পড়ে। বোরো মৌসুমে অধিক পরিমাণে ভূ-গর্ভস্থ্য পানি তোলা হয়। এতে পানির স্তর দ্রুত নিচে নামে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ্য পানিতে রাসায়নিক পদার্থ ও আর্সেনিকের লেড বাড়ে। এগুলো মানবদেহ ও ফসলের ক্ষতি করে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিউল আলম।
পানিতে সামান্য পরিমাণ আর্সেনিকই ক্ষতিকর বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুরঞ্জন কুমার সরকার। তিনি বলেন, মানুষ কীটনাশক পান করলে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়। তেমনি একটানা আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলেও সৃষ্টি হয় বিষক্রিয়ার। এতে খাদ্যনালি শুকিয়ে যাবে। চর্ম রোগ দেখা দেবে। মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়বে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন আয়রনযুক্ত পানি পান করলে আলসার হয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। দেখা দিতে পারে গুরুতর পেটের অসুখ। হাত-পায়ের নখ ও দাঁতে কালো দাগ পড়ে, খয়ে যাওয়া শুরু হয়। সব সময় আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি ব্যবহার করতে হবে।
এদিকে ২৬৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার ১৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ওয়াশ ব্লকের মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা আছে ৪০টিতে। অবশিষ্ট ১৫৯টি বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নেই। এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী স্থানীয়ভাবে বোরিং করা নলকূপের পানি পান করে।
উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ৬৬টি। দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার সংখ্যা ৩৭। ১৪টি কলেজ আছে। সব মিলিয়ে ১১৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিরাপদ পানির ওয়াশ ব্লক আছে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অন্য ১০৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী নিরাপদ পানি পায় না বলে জানান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন।
একসঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ সম্ভব নয় বলে জানান সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার হাবিব। তিনি বলেন, আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহের কাজ চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সবাই নিরাপদ পানির সুফল পাবেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com