মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:০৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
সাদুল্লাপুরে ঝুকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার গাইবান্ধায় যুগান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন গোবিন্দগঞ্জ রংপুর ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন সাঘাটায় ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির মিলনমেলা রোগ পরীক্ষা নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে হেলথ প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ২ শিক্ষক আটক সুন্দরগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযানঃ গ্রেফতার ৩ পলাশবাড়ীতে মাদকসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার

সাদুল্লাপুরে নার্সারি করে ভাগ্য বদলেছে ৮০ ভাগ মানুষের

সাদুল্লাপুরে নার্সারি করে ভাগ্য বদলেছে ৮০ ভাগ মানুষের

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রাম। নামের সাথে কৃষ্ণ অর্থাৎ কালো রঙের কথা থাকলেও বাস্তবের চিত্র একেবারেই ভিন্ন । ছবির মতো সুন্দর এই গ্রামের ভিতরে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক বাণিজ্যিক নার্সারি , যেখানে ফুল, ফলসহ বিভিন্ন বনজ উদ্ভিদের চারা রোপণ করে বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের কাছে তাই গ্রামটি নার্সারি পাড়া নামে অধিক পরিচিত ।
এই গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবারের মধ্যে এখন প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার নার্সারি পেশায় সম্পৃক্ত। এ গ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক নার্সারি আছে প্রায় শতাধিক। গ্রামের ফসলের মাঠে ধানের আবাদের পরিমাণ খুবই কম ।তাই গ্রামের মাঠে মাঠে এমনকি বাড়ির উঠানেও চারা বিক্রির ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
নার্সারি মালিকরা জানান, কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের গাছের চারা গাইবান্ধা জেলার চাহিদা মিটিয়ে ছড়িয়ে যায় দেশজুড়ে । বছরজুড়ে ট্রাকভর্তি করে চারা সরবরাহ করেন নার্সারি মালিকরা।
নার্সারির মাধ্যমে গোটা গ্রামের মানুষ যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন তেমনি লাখ লাখ গাছের চারা উৎপাদন করে তারা পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সরেজমিন দেখা যায়, গ্রামের যেদিকেই চোখ যায় শুধুই নার্সারি আর গাছের চারা। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা থেকে শুরু করে দেশি সবধরনের ফল ছাড়িয়ে আপেল, কমলালেবু , মাল্টা, বিদেশি পার্সিমন, , পিনাক বাটার, কিউই, শ্বেতচন্দনসহ বিভিন্ন ফলদ ও ভেষজ গাছের চারা রয়েছে এ নার্সারিগুলোতে।
বুজরুক পাকুরিয়া গ্রামের সততা নার্সারির মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিলো তার। ১৯৯০ সালে নিজস্ব ২ একর জমিতে নার্সারি করে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। তার নার্সারিতে প্রায় ১৫০ জাতের চারা রয়েছে। চারা উৎপাদনের পর বিক্রি হচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ।
সততা নার্সারি -২ এর উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম জানান- ঢাকা, যশোর ও বগুড়া থেকে উন্নত জাতের চারা-বীজ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এসব চারা পরিচর্যার মাধ্যমে আরও চারা উৎপাদিত হয়। এগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাইকারি মূল্যে কেনেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে খুচরাও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে শ্রমিক, সার-কিটনাশক খরচ বাদে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ করছেন তিনি।
আয়াত নার্সারির উদ্যোক্তা রেজাউল করিম বলেন, নার্সারি ব্যবসায় লাভ ভালো হয়। চারা তৈরি ও ব্যবসা করে ৮ বিঘা জমি কিনেছেন। পাকাবাড়ি বানিয়েছেন।
আকাশ নার্সারির স্বত্বাধিকারী শাহজাহান কবীর জানান, বাবার কাছ থেকে ১৮ বছর আগে তিনি নার্সারির কাজে হাত দেন। তার নার্সারিতে ৮ জন শ্রমিক কাজ করে। তিনি আম, আমড়া, পেয়ারা, কমলালেবু, মাল্টা, মিষ্টি তেঁতুল, জল পাইসহ ফলদ, বনজ ও ঔষধি বিভিন্ন গাছের চারা উৎপাদন করেন। মাসে তিনি প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার চারা বিক্রি করেন।
এদিকে গ্রামজুড়ে গড়ে ওঠা এসব নার্সারিতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিকের । পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী শ্রমিকরা এসব বাগানে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com