বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

সাদুল্লাপুরে তীব্র যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ

সাদুল্লাপুরে তীব্র যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ পাঁচটি সড়কের সংযোগস্থল সাদুল্লাপুর বাজার মোড়। ঢাকাগামী দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কার এবং মাইক্রোবাসের সঙ্গে অসংখ্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে শহরে। সঙ্গে আছে তিন শতাধিক ইজিবাইক। এসব পরিবহন শহরে দাঁড়ানোর নির্ধারিত স্ট্যান্ড নেই বলে জানান একটি কাউন্টারের মাস্টার দেলাত হোসেন। ফলে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ও পণ্য ওঠানামা করেন চালকরা। ফলে তীব্র যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ।
দখল হয়ে গেছে শহরের ফুটপাতও। বসানো হয়েছে ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছুদিন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে তাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে গাড়ি চলাচলে শৃঙ্খলা নেই। ফলে ব্যস্ত মোড় ঘিরে সড়কে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে রমজানে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে উপজেলার বাসিন্দাদের।
সাদুল্লাপুর বাজার মোড়ের ফুটপাতের দোকানি আব্দুর রহিম মিয়ার ভাষ্য, ‘আমরা স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী। তাই ফুটপাতে বসি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন আমাদের তুলে দেয়। তার পরও বসতে হয় জীবিকার তাগিদে। এতে ফুটপাত দখল হয়। তাতে কিছু করার নেই। স্থানীয়দের এগুলো সয়ে গেছে।
বাজার মোড়ের ফুটপাতের দোকান আর যেখানে-সেখানে অটোভ্যান, ইজিবাইক দাঁড় করানোয় ঠিকভাবে হেঁটেও চলাচল করা যায় না বলে জানালেন পথচারী জামির হোসেন সরকার। আর বাইসাইকেল আরোহী মোস্তাফিজার রহমানের ভাষ্য, অন্য গাড়ির কারণে যানজটে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। কিন্তু যানজট নিরসনে এগিয়ে আসে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ।
জানা গেছে, ইদ্রাকপুর, তুলসীঘাট, ভাতগ্রাম, বকশিগঞ্জ, ধাপেরহাট, বড় জামালপুর, মীরপুর বাজার, কান্তনগর, মহিষবান্দি, ছান্দিয়াপুর, রসুলপুর, নিয়ামতনগর, নলডাঙ্গা, কামারপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে যাওয়া-আসার সড়ক মিলিত হয়েছে সাদুল্লাপুর বাজার মোড়ে। এসব এলাকা থেকে উপজেলা শহরে আসতে মোড়টি পার হতে হয়। ফলে পথচারীর পাশাপাশি বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল এবং গণপরিবহনের কারণে যানজট কমছে না।
মোড়ের পশ্চিমে সড়কের দু’পাশ দখল করে বসানো হয়েছে সবজির দোকান। আর মূল মোড়ের সবদিকে ফলের দোকান রয়েছে। এর পাশাপাশি যত্রতত্র রাখা হচ্ছে ইজিবাইক। এতে পাঁচ রাস্তার মোড়ে প্রবেশ করাই কষ্টকর। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ এবং অফিস খোলা থাকলে যানজট সমস্যা আরও প্রকট হয়। কিন্তু প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শহরে নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় সবাই যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোর সাহস পায় বলে অভিযোগ ইজিবাইকচালক আব্দুল হামিদ আকন্দের। তিনি বলছিলেন, এভাবে শহরে যানজট বেশি হচ্ছে। তবে নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকলে এত যানজট হতো না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্ট্যান্ড তৈরি করলে ভালো হয়।
শহর ঘেঁষে বাইপাস সড়ক নেই। এর সঙ্গে গণপরিবহন চালকদের দায়িত্ববোধও নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী এনায়েতুল মোস্তাফিজ রাসেলের। তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেখা যায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সে কারণে এ মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। এতে কষ্ট পাচ্ছেন পথচারী থেকে শুরু করে যাত্রীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বাজার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করেন তারা। তবে এখন আর নেই বলে জানান সাদুল্লাপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সাবু। তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ থাকার সময় কিছুটা শৃঙ্খলা ছিল। এখন এর বালাই নেই।
জেলা শহর থেকে একজন করে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এসে দায়িত্ব পালন করেছেন জানিয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান বলেন, জেলা শহরে চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখানে যাতে ট্রাফিক পুলিশ থাকে, কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সে ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের আগে গ্রাম পুলিশ অথবা অন্য কোনোভাবে যানজটের ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও কাওছার হাবিব বলেন, বাজার মোড় শিগগির প্রশস্ত করে আঞ্চলিক মহাসড়ক হবে। তখন যানজট এবং ভোগান্তি কমবে। তবে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যানচালকরা সচেতন হলে যানজট কিছুটা কমানো সম্ভব। এর সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে নির্ধারিত স্ট্যান্ড তৈরি করতে হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com