শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

সাদুল্লাপুরে ঝুকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার

সাদুল্লাপুরে ঝুকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাদুল্লাপুরের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। ঘাঘট নদীর ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ৮টি স্থান দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ডিঙ্গি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো। স্বাধীনের ৫৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সেতুতে মানুষ পারাপার হচ্ছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের মন্দুয়ারের চৌকিদারের খেয়াঘাট, টুরিচর ঘাট, দামোদরপুর ইউনিয়নের সিটজামুডাঙ্গার কর্নের খেয়াঘাট, চকশালাইপুর-ভাঙ্গামোড়ের মাঠেরঘাট, চান্দের বাজার এলাকার ইব্রা মন্ডলের ঘাট, নলডাঙ্গার শ্রীরামপুরের কাটানদীর মুখঘাট ও রসুলপুর ইউনিয়নের মহিশবান্দী দ্বীপচর। ঘাঘট নদীর এসব স্থান দিয়ে দৈনন্দিন লক্ষাধিক মানুষ ডিঙ্গি নৌকা ও কাঁঠ-বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যখন সংসদ নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়, তখন নদীপারে বৃদ্ধি পায় নেতা-কর্মীদের আনাগোনা। নির্বাচনী প্রার্থীরা অবিরাম ছুটে চলেন ঘাঘট তীরের মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। এসময় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তারা। তবে কথা রাখেননি কেউ। নির্বাচিত হওয়ার পর আর দেখা মেলে না তাদের। এভাবে যুগের পর যুগ কেটে গেছে প্রতিশ্রুতি আর হতাশায়। অগত্যা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও সাঁকো দিয়েই চলাচল করছেন শতাধিক গ্রামের মানুষ। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদেরও একমাত্র ভরসা নৌকা ও সাঁকো। ভাঙাচোরা এসব নৌকা-সাঁকো দিয়ে চলতে গিয়ে হরহামেশা ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘাঘট নদীর জনগুরুত্বপূর্ণ ৮টি স্থানে বর্ষা মৌসুমেও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ডিঙ্গি নৌকাগুলো এপার-ওপার যাতায়াত করে। তখন নৌকাডুবির ঘটনাসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এরপর শুকনো মৌসুমে স্থানীয়দের আর্থিক ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় কাঠ-বাঁশের সাঁকো। এটিও প্রতিবছর সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। মেলে না সরকারি বরাদ্দ। মাঝে মধ্যে কোনো জনপ্রতিনিধি কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। যা চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল।
ওইসব ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। আর পরিবার পরিজনরা থাকেন উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। বর্ষা মৌসুম এলেই নদী কানায় কানায় পানিতে ভরে গেলে বেড়ে যায় দুর্গতি। ওপারের রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। যেন রোগীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার প্রহর গুনে ঘাঘট নদীর ঘাট।
ঘাঘট তীরের বাসিন্দা এরশাদ আলী ও ইব্রাহিম মিয়াসহ অনেকে বলেন, দেশে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও উন্নয়নের হাওয়া লাগেনি ঘাঘটের ওসব ঘাটে। দেশ স্বাধীনের ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সরকারের আমলেই নজরে আসেনি এখানে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি।
সাদুল্লাপুরের ঘাঘটের ৮টি স্থানে ব্রিজ নির্মাণ হলে লেখাপড়া, ব্যবসা বাণিজ্যসহ কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। ব্রিজ হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান নামের এক শিক্ষক।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মেনাজ বলেন, ওসব ঘাটের মধ্যে চান্দের বাজার ইব্রা মন্ডলের ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কাওছার হাবীব জানান, ঘাঘট নদীর টুনিরচর এলাকায় ব্রিজ নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এ উপজেলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com