শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

সাদুল্লাপুরে ছাগল স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন যোগায়

সাদুল্লাপুরে ছাগল স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন যোগায়

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ ছাগল একধরণের তৃণভূজী ও চতুষ্পদ প্রানী। কম বেশি ছাগল পালন করে গ্রামগঞ্জে,কেউ স্বপ্ন দেখে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার, আবার কারো এক ধরনের নেশায় পরিনত ছাগল পালন। কি ভেবে ছাগল পালন করছেন তা প্রকৃতপক্ষে জানা না থাকলেও নিজের সন্তানের মতো ছাগলের যত্ন নেন আসমা। ছাগল পালন করতে করতে মায়ার জালে আটকে পড়েন আসমা একটি থেকে আস্তে আস্তে এখন আসমার ছাগল ২০টি। ছাগলই এখন স্বপ্ন যোগায় স্বাবলম্বী হওয়ার। নেশা-পেশা সব এখন ছাগল পালনে একাই একাই সারাদিন ছাগলের পিছনে ছুটতে ছুটতে নিজের খাওয়ার সময় না থাকলেও ঠিকই আসমার চিন্তা ছাগলের খাওয়ার ও যতেœর। সেই আসমার বাড়ী সাদুল্লাপুর উপজেলার অবহেলিত কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরানলক্ষীপুর গ্রামে। স্বামি আঙ্গুর চায়ের দোকান করেন নুরপুর বাজারে সকালে যান ১০ টায় আসেন তারপরে ছাগলের সাথে একটু সময় দিয়ে আবার যান দোকানে আসেন ১২টায়। আসমা বিনয়ীকষ্ট বলেন,করোনার সময়ে চায়ের দোকান বদ্ধ ছিলো খাওয়ার কোন কিছুই ছিলো না ঘরোত। সরকার করোনার মধ্যে গরু ছাগল পালনে ট্যাকা দিচে হামরা কোন দিন কোন ট্যাকা পাইনি এতো কষ্টে তবুও সরকার আমারঘরোক দেখে না। ভোটের বেলায় খালি ভোট চায় এভাবে বিভিন্ন অভিযোগ তার। ছাগলের খাদ্যের খুব অভাব,অকাল মৃত্যু, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও চিকিৎসা জনিত সচেতনতার অভাবে ছাগল পালনে স্বাবলম্বি হতে পারছে না অনেকেরই দাবি। আসমা শখের ছাগল পালনকে এখন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রায় এক যুগ আগে ১টি ছাগল দিয়ে তার ছাগল পালন শুরু অভাব অনাটনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরার ঘটনায় অতিকষ্ট করে বর্তমানে তার ২০টি ছাগল রয়েছে। প্রতিদিন সকালে তিনি ছাগল নিয়ে বের হন আবার ছাগল নিয়ে খাবার শেষে বাড়ি ফিরে আসেন। ছাগল পালনে খুবই কষ্ট হলেও কোনো সময়ই বিরক্ত হয় না। সন্তানের মতোই ছাগলগুলোকে তিনি আদর করেন। কোনো ধরনের ব্যাংক বা এনজিও ঋণ ছাড়াই এ খামার গড়ে তুলেছে আসমা। লাভজনক এই উদ্যোগ আরো প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো তফসিলি ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ পেলে হয়তো খামারের পরিকল্পনা অনুসারে প্রসারিত করতে পারবে আসমা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর অর্থাৎ প্রাণী সম্পদ অফিস হতে এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশা করেন আসমা।
তিনি আরও জানান, এখন আর বাজারে গিয়ে তার ছাগল বিক্রি করতে হয় না। ব্যাপারি এসে বাড়ি থেকে ছাগল নিয়ে যান। ছাগল পালন করে তিনি এখন বেশ স্বাবলম্বী। পরিবারের লোকজন তাকে সহযোগিতা করে থাকেন। তবে তার অভিযোগ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তিনি তেমন কোনো সহযোগিতা পান না। বাড়িতে ডাক্তার আনা হলে ফি দিতে হয়। অনেক সময় ট্যাকা থাকে না ডাক্তার আনবার পায় না। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসমার ছাগল দেখে স্বাবলম্বী হওয়ার খবর শুনে দেখতে আসা অনেকেই এখন ছাগল পালনে ঝুকছে। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আরিফুল ইসলাম কনক বলেন, ঔষধে অফিসে কোনো টাকা দিতে হয় না। যে কেউ আসলে সেবা পাবেন। আমি আশার পর সব খামারে ঘুরে ঘুরে দেখতে যাচ্ছি। সবাইকে উৎসাহিত করার জন্য আহ্বান করছি। তিনি আরও জানান, এই একটি মাত্র প্রাণী যার বছরে দু’বার প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবার প্রজননে একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাইও কম হয়। বছরে একবার পিপিআর, গডপক্স ভ্যাকসিন দিলেই আর কোনও ওষুধ লাগে না। তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব। যেখানে একটি বিদেশি গাভি পালন করলে প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার খায়। আর সেখানে ৩০০ টাকা হলে প্রতিদিন ৩০ টি ছাগলকে খাওয়ানো যায়। ছাগলের খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা ও ছোলা বুটের গুড়ো সেই সঙ্গে সয়াবিন ও খড় । যা ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর। এছাড়াও দেশি ছাগলের বেশ চাহিদা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার আরো বলেন, পরামর্শ নিলে আমরা তার ওই ছাগলের খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ দিব। এখন অনেকেই ছাগলের খামার গড়ে তুলতে পরামর্শের জন্য আমাদের কাছে আসছেন। তাদেরকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com