বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
খোর্দ্দকোমরপুর ইউপির উপনির্বাচন স্থগিত কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিঃ গাইবান্ধায় আ’লীগ-বিএনপির অফিসে-হামলা-অগ্নিসংযোগ সুন্দরগঞ্জে কোটা নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সুন্দরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের লাশ একদিন পর উদ্ধার গোবিন্দগঞ্জে ২ মাহিলা ছিনতাইকারী গ্রেফতার মহিমাগঞ্জে প্রধান গ্রুপের সার্ভার স্টেশনে অগ্নিকান্ডে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি পলাশবাড়ীতে মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ঃ আহত ১ জন গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ তিস্তার পানি কমার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে পলাশবাড়ীতে মটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত

সাদুল্লাপুরে ঘাঘটের ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

সাদুল্লাপুরে ঘাঘটের ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ সাদুল্লাপুর উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে ঘাঘট নদ। আঁকাবাঁকা এ নদের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। কিন্তু নেই কোনো নদী শাসন ব্যবস্থা। ফলে তীরবর্তী মানুষেরা হারাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি। অনেকের ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটছে নির্ঘুমে।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার উপজেলার নলডাঙ্গা ও দামোদরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় নদী ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। এসময় ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের মুখে শোনা গেল ভাঙন রোধের দাবি-দাওয়া।
জানা যায়, নাব্যতা সংকটে পানির প্রবাহ কম থাকলেও ঘাঘট নদে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে শতাধিক পরিবার তাদের ঘর বাড়ি অন্যত্র সড়িয়ে নিয়েছে। এই নদী পাড়ের ২৬ কিলোমিটারের দীর্ঘ একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বহু সরকারি ছোট বড় স্থাপনা, স্কুল, কলেজ, মসজিদসহ হুমকির মুখে রয়েছে একটি গুচ্ছগ্রামও। তাছাড়া গত এক বছরে এখানকার হাজারো পরিবারের শতশত হেক্টর আবাদি জমি, ঘর-বাড়ি, গাছপালাসহ চলাচলের রাস্তা বিলীন হয়েছে নদী গর্ভে। সাদুল্লাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ ধরে বয়ে চলা ঘাঘট নদীটি গিয়ে ঠেকেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায়। দুই জেলার সীমান্তবর্তী হলেও পুরো নদটি রয়েছে গাইবান্ধার মানচিত্রে। অথচ নদীর ওপারে নদী শাসনসহ জিও ব্যাগ, ব্লক নির্মাণসহ নেয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। বন্যার সময় উজানের ঢলে পানির চাপ এসে ভর করে গাইবান্ধা অংশে। এ কারণে এ পাড়ে অনাবরত ভাঙনের সৃষ্টি হলেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের।
সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুরের ছান্নার ঘাট থেকে নাটির ছাড়া, রসূলপুর ইউনিয়নের কাটা নদী মুখ হয়ে দামোদরপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড় এলাকার কুটিরপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার নদী পাড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০টিরও বেশি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শতশত হেক্টর আবাদি জমি, ঘর-বাড়ি, গাছপালাসহ চলাচলের রাস্তা।
এলাকাবাসি জানায়, সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ হয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলার টুনির চর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ কিলোমিটার ঘাঘট পাড়ে রয়েছে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এ বাঁধেই আশ্রয় হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের। কিন্তু প্রতি বছরের বন্যা আর নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অধিকাংরাই। অনেকে মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে পথে বসেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বহু সরকারি ছোট বড় স্থাপনা, স্কুল, কলেজ, মসজিদসহ গুচ্ছগ্রামও। যে কোন মহুতেই এসব স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে শঙা বসবাসকারীদের।
ঘাঘটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। তাছাড়া বাঁধ সংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাহাবাজ, দক্ষিণ সাহাবাজ, মাস্টারপাড়া ও আকন্দপাড়া গ্রামগুলো রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে। এছাড়া সাদুল্লাপুর উপজেলার রসূলপুর ইউনিয়নের প্রামানিকপাড়া, রহমতপুর, চাঁন্দেরবাজার ও মহিষবান্দি গ্রামসহ দামোদরপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড়, কুটিপাড়া, ভাঙ্গারদহ ও জামুডাঙ্গা গ্রামের হাজারো পরিবারের দিন কাটছে আতঙ্কে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com