মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

সাদুল্লাপুরে অচল পায়ে জীবন সংগ্রাম জাকিরের

সাদুল্লাপুরে অচল পায়ে জীবন সংগ্রাম জাকিরের

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ নিভৃত গ্রামের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলাম জাকির (৩৫)। যখন টগবগে যুবক, তখন পরিবার নিয়ে ভালোই চলছিল তার সংসার। এরই মধ্যে সামান্য দুর্ঘটনায় দুই পা অচলাবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সুখের সংসারে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে বেঁচে নিয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। এ থেকে যেটুকু অপার্জন হয় তা দিয়েই চলছে জীবন সংগ্রাম। এই জাকিরুল ইসলামের বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের চকশালাইপুর গ্রামের দিনমজুর বাচ্চা মিয়া ও জইরন বেগম দম্পতির ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছিন্নমূল পরিবারের সন্তান জাকিরুল ইসলাম। নেই কোন সহায় সম্ভল। কৈশরে বাবাকে হারিয়ে হাল ধরতে হয়েছে মায়ের সংসারে। শুরু করে দিনমজুরের কাজ। আছে পৌনে ১ শতক জমি। সেখানে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস। এরই মধ্যে বয়স বেড়ে যখন টগবগে যুবক তখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। দাম্পত্য জীবনে ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। মাসহ ৫ সদস্যের সংসার। একপর্যায়ে জাকিরুলের পায়ে ঘা দেখা দেয়। এরপর শুরু করে চিকিৎসাসেবা। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা। তবুও ভালো হয়নি পা দুটি। এখন টাকার অভাবে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা। খেয়ে না খেয়ে বাঁচার আকুতি ৫ সদস্যের। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তি। একদিকে অসুস্থ শরীর অন্যদিকে হেঁটে চলা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। তবুও জীবিকা নির্বাহে ছুটতে হচ্ছে এপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তরে। খুরিয়ে খুরিয়ে সারাদিন অন্যের কাছে হাত পেতে যা পায় তায় দিয়েই কোনোমতে চলছে সংসার।
এ ভুক্তভোগি জাকিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মা-স্ত্রী-সন্তানদের জীবন বাঁচানোর জন্য ভিক্ষা করছি। কিন্তু শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতায় দিনভর চলতে অনেক কষ্ট হয়। দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় হয়। এ দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার তিন সন্তানের মধ্যে ২ জন স্কুলে পড়ে। এখন আর তাদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছিনা। হয়তো আগামী বছর থেকে সন্তানদের বন্ধ হবে শিক্ষাজীবন। এছাড়াও আমার পায়ের উন্নত চিকিৎসার দরকার। কোন দানশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আমাকে যদি সহযোগিতা করতেন তাহলে হয়তো উপকৃত হতাম। আমার নগদ নম্বর ০১৭৯৩৮১০০০৪। এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ (কাওছাড় মন্ডল) বলেন, ওই পরিবারটির খোঁজ নিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com