শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

সাঘাটায় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ

সাঘাটায় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাঘাটা উপজেলা এলাকার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁধের উপর অবৈধ জনবসতি এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠায় প্রতিবছর বন্যার সময় মারাত্মকভাবে ভাঙন হুমকিতে পড়ে বাঁধটি। অথচ দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষাকল্পে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিগত ১৯৬৮ সালে এ বাঁধটি নির্মাণ করে। প্রথমদিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করলেও আশির দশকের পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কারের অভাবে বাঁধটি দখল করে গড়ে উঠেছে জনবসতিসহ বিভিন্ন ধরণের অসংখ্য স্থাপনা। এমনকি বাঁধ কেটে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করায় বাঁধটি অতিরিক্ত সরু হয়ে গেছে। এছাড়া বাঁধের মাটি কেটে নিয়ে নিজেদের ঘরের স্থান উঁচু করে নেয়া হয়েছে। ঘরের পাশে খরের স্তুপ রাখায় বাঁধটিতে অসংখ্য ইঁদুর গর্ত করেছে। এতে দুর্বল হয়ে পড়েছে এ বাঁধটি। বন্যায় এ সমস্ত গর্ত দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ায় বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ধসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া গ্রাম হতে শুরু করে সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁধের কোথাও দু’পাশের ঢালু খাড়া করে কেটে সমতল করে সেখানে কোথাও আবার বাঁধের উপর ঘরবাড়ি তুলে লোকজন বসবাস করছে। বিশেষ করে ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ডাকবাংলা বাজার এলাকা হতে সাঘাটা ইউনিয়নের বাশহাটা পর্যন্ত এ বাঁধের অবস্থা বেশী শোচনীয়।
এব্যাপারে সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সুইট জানান, বাঁধে বসবসাসরত এসব পরিস্কারে স্থায়ীভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে বাঁধটি মুক্ত করে সংস্কার করা জরুরী। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানা গেছে, বাঁধের উপর জনবসতি সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে শক্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। সংস্কার করার জন্য এই মুহুর্তে কোন বরাদ্দ নেই। বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবল না থাকায় তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষন করা সম্ভব হয়নি। তবে বরাদ্দ পেলে বাঁধটির প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com