মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
সাদুল্লাপুরে ঝুকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার গাইবান্ধায় যুগান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন গোবিন্দগঞ্জ রংপুর ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন সাঘাটায় ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির মিলনমেলা রোগ পরীক্ষা নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে হেলথ প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ২ শিক্ষক আটক সুন্দরগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযানঃ গ্রেফতার ৩ পলাশবাড়ীতে মাদকসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার

সাঘাটায় কাটিং ও কলম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ

সাঘাটায় কাটিং ও কলম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ আধুনিক কাটিং ও কলম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে সাঘাটা উপজেলার কৃষক সফলতার মুখ দেখছেন। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ। এ সফলতা দেখে যেমন অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন, তেমনি উদ্ভাবক নজরুল ইসলামের এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
পুরনো পদ্ধতিতে বাঁশ লাগানোর পর বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিলুপ্তপ্রায় বাঁশঝাড় দেখে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বাঁশঝাড় রক্ষায় চেষ্টা করতে থাকেন। ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিরলসভাবে গবেষণা শুরু করেন। প্রথমেই কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করেন; কিন্তু কোনোভাবেই এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষের সফলতা আসছিল না। এভাবে প্রতি বছরই গবেষণা করতে থাকেন আর নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেন। বিভিন্ন নিয়মে বাঁশের কাটিং পদ্ধতি চালিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর এই পদ্ধতিতে বাঁশ চাষে সফল হন তিনি। প্রথমেই তিনি নিজের বাড়িতে এবং গাইবান্ধা জেলার ২০টি গ্রামের ৩০ বিঘা জমিতে কাটিং পদ্ধতিতে বাশ চাষ করে সাফল্য অর্জন করেন। এ পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে খুব অল্প সময়ে বাঁশ ব্যবহার উপযোগী হয়, বিক্রিও করা যায় এবং নিজের কাজেও লাগানো যায়।
সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীর তছিত উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে নজরুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয় ছিল প্রকৃতি ও উদ্ভিদ। ওই সময়ই তাঁর বাড়িঘর, বারান্দা ও উঠোনে গাছের ছড়াছড়ি ছিল। পাড়া-প্রতিবেশীরা তাই বাড়িটির নামকরণ করেন গাছের ল্যাবরেটরি’। ১৯৭১-এ কিশোর বয়সে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা নজরুল ১৯৭২ সালে ম্যাট্রিক পাসের পর রংপুরের তাজহাটে উদ্যানতত্ত্ব বিষয়ে কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে যোগ দেন কৃষি বিভাগের চাকরিতে। বর্তমানে তিনি সাঘাটা উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই কীর্তিমান মুক্তিযোদ্ধা কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৫ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি সর্বশেষ বাঁশের বংশবৃদ্ধির সহজ ও বোধগম্য পদ্ধতি উদ্ভাবন করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। দীর্ঘ একযুগের টানা গবেষণার পর সাফল্য তাঁর হাতের মুঠোয় ধরা দিয়েছে। বাঁশের বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাটিং পদ্ধতির প্রযুক্তি সফল হওয়ায় গাইবান্ধার কৃষি সংশ্লিষ্ট সেক্টরে তাঁর নাম এখন সবার মুখে মুখে।
নিজের বাঁশ বাগানে দাঁড়িয়ে নজরুল জানান তাঁর উদ্ভাবন প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, বাঁশঝাড় থেকে দুই বছর বয়সী সতেজ ও সবল বাঁশ চিহ্নিত করে কেটে নিতে হবে। বাঁশের কঞ্চিগুলো দুই ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা রেখে বাকি অংশ ছেঁটে ফেলে সম্পূর্ণ বাঁশটিকে দুই গিটের মাঝখানে করাতের সাহায্যে বাঁশের আকৃতি ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টুকরো করে নিতে হবে। এক বিঘা জমিতে বাঁশের চারা তৈরির জন্য এরকম ৩০০ টুকরোর দরকার হবে। বাঁশ টুকরো করার পর সব টুকরো একটি গর্তের ভেতরে রেখে খড় দিয়ে ঢেকে প্রতিদিন হালকা পানি সেচ দিয়ে ভেজাতে হবে। এরপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন রাখার পর দেখা যাবে প্রতিটি গিট থেকে কুশি (নতুন পাতা) বেরিয়েছে। এরপর টুকরোগুলো তুলে নিয়ে নির্ধারিত জমিতে ৮৬ ফিট পরপর নালা কেটে তার মধ্যে বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এই মাটি দিয়ে ঢাকার পদ্ধতি হবে আলু চাষের মতো। পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই বাঁশের চারাগাছ কঞ্চির আকারে বেরুতে থাকবে। এভাবে পুরো বাঁশঝাড় তৈরি হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে।’

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

 

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com