বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

স্টাফ রিপোর্টারঃ কার্তিকের সকালের হালকা কুয়াশা মনে করিয়ে দেয় শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে নদী বেষ্টিত ও ভাঙ্গন কবলিত গাইবান্ধায় শুরু হয়েছে আগাম শীতকালিন সবজির চাষাবাদ। শীতের শুরুতেই ফসল উৎপাদনে ক্ষেত পরিচর্যায় মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া আর বাজার দর ভালো পাওয়ায় ধানের তুলনায় কয়েকগুণ মুনাফা অর্জন করছে এই অঞ্চলের সবজি চাষীরা।
এসব সবজি চাষে খুব বেশি আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। কিন্তু রোগবালাই দমনে সবজিতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়। স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে বিক্রি করা যায়, যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব নয়। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সব মিলিয়ে সবজি চাষকেই এ অঞ্চলের কৃষকরা লাভজনক মনে করছেন। তাই দিনদিন সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
চলতি বছর গাইবান্ধার সাত উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ৯ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষীরা লালশাক, পুইশাক, পালংশাক, ঢেঁরশ, মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, মিষ্টি কুমরা, বরবটি আবাদে এখন ভীষন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আগাম শীতকালীন সবজির বাজার দর ভালো পাওয়ায় এ আবাদে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এরইমধ্যে যে সব উৎপাদিত শীতকালীন সবজি বাজারে বিক্রি করছে, সেগুলোর ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুঁটে উঠেছে তাদের চোখে মুখে।
সরেজমিনে গিয়ে সদর উপজেলার খোলাহাটি, কুপতলা, লক্ষিপুর, ঘাঘোয়া ও সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মিলন মিয়া, সাদেক আলী, ফয়জার মিয়া, শ্রী বাসুদেবসহ কয়েকজন সবজি চাষির সাথে কথা হয়। তারা জানান, ‘এবার আবহাওয়া ভাল। অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যা নেই। কিছু কিছু সবজি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা যাচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে নতুন নতুন জমি তৈরি করার পাশাপাশি পরিবার এবং সন্তানের লেখাপড়ার খরচ করতে পারছি।
সদর উপজেলার রতের বাজার এলাকার পোটল চাষি মাজেদুল ইসলাম উচ্ছ্বসিত কন্ঠে তার সফলতার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দুই বিঘা জমিতে পটোলের চাষ করেছি। প্রতিদিন ৪/৫ ধড়া পোটল বিক্রি করা যায়। এক ধড়া পোটল ১৭০/৮০ টাকায় বিক্রি হয়। মাচায় নতুন করে প্রচুর ফুল এসেছে। আশা করছি আগামী তিন- চারমাস এই পোটল বিক্রি করা যাবে। তাছাড়া এই পোটল বিক্রির টাকা দিয়ে নতুন জমি তৈরি করে সেখানে বেগুনের চারা রোপণ করছি। আগের মতো ধান চাষ করে এখন আর টাকার মুখ দেখা যায়না। আগামীতে ধানের আবাদ আরও কমিয়ে শুধু সবজি চাষ করবো।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মারুফ জানান, শীতকালীন সবজি চাষের উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত আসায় এর আবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। চলতি বছর সদর উপজেলায় ১২’শ ৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪’শ ৭৫ হেক্টর জমিতে সবজির আগাম চাষ করা হয়েছে। কৃষকের মাঝে ভালো জাতের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। শীতকালীন সবজি চাষ পদ্ধতি, পরিচর্যা, রোগ বালাই দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাড়িতে সবজি বাগান তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি ফসলের ভালো মূল্য পেতে বাজারে লিংকেজ তৈরির কাজও করছে কৃষি বিভাগ।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ বেলাল উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত সবজি জেলার সবজি চাহিদা মিটিয়ে উৎবৃত্ত সবজি ঢাকাসহ দেশের অন্য জেলাতে সরবরাহ করা হবে। কৃষি বিভাগের লোকজনের নিয়মিত মনিটরিংয়ে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ায় কৃষকদের মুনাফাও বেড়েছে কয়েকগুণ।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com