বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

শাকোয়ায় টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ৩ দিন পর দাফন হলো মরদেহ

শাকোয়ায় টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ৩ দিন পর দাফন হলো মরদেহ

স্টাফ রিপোর্টারঃ পলাশবাড়ীতে জমি বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভাই-ভাতিজার দ্বন্দ্বে বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা মোতাহার হোসেন মুন্সির (৭৫) মরদেহ তিন দিন পর দাফন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে পুলিশের হস্তক্ষেপে মরদেহটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মোতাহার হোসেন মুন্সী ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান। এরপর থেকে স্ত্রী মাসুমা বেগমকে নিয়ে তিনি ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। কিছুদিন আগে মোতাহার হোসেন অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। তাই ঢাকায় থাকা একখ- জমি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। গত এক সপ্তাহ আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মারা যান। এর পরদিন মোতাহার হোসেনের মরদেহ দাফনের জন্য পলাশবাড়ী উপজেলার শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে আনেন তার স্ত্রী। পরে ওই মরদেহ দাফনে বাধা দেন মোতাহার হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সী ও তার ভাতিজা হাবিবসহ পরিবারের কয়েকজন।
এসময় তারা মাসুমা বেগমের কাছে মোতাহার আলীর কাছে থাকা জমি বিক্রির দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা কোথায় কোন ব্যাংকে আছে তা জানতে চান। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে মরদেহ নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও দ্বন্দ্বের নিরসন করতে পারেননি।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মরদেহ দাফন না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। পরে তারা বৈঠক করে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাদের উপস্থিতিতে নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা নামাজ শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
ভাই-ভাতিজাদের অভিযোগ, কিছু দিন আগে মোতাহার আলী তার নিজ নামের জমি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা বিক্রি করেন। সেই টাকা স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রাখেন। পরে মাসুমা বেগম গোপনে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলন করেন।
বেতকাপা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সন্তান না থাকায় মোতাহার আলীর ভাই-ভাতিজারা মরদেহ দাফনে আপত্তি জানানোয় মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল। দেনা-পাওনা এবং সম্পদ বিক্রির প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা নিয়ে তার স্ত্রী মাসুমা বেগমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান পরিবারের লোকজন। অবশেষে উভয়কে নিয়ে পারিবারিকভাবে অর্থ সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের সমঝোতা হয়েছে। মোতাহার আলীর স্ত্রী মাসুমা বেগম তার ভাই-ভাতিজাদের ৬০ লাখ টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরই নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তিন দিনেও মরদেহ দাফন হয়নি বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পারিবারিকভাবে সমঝোতা হওয়ায় রাতে মোতাহার হোসেন মুন্সির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com