বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

মাছে ভাতে বাঙ্গালীঃ সেই মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া

মাছে ভাতে বাঙ্গালীঃ সেই মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া

স্টাফ রিপোর্টারঃ স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার দিনমজুর আব্দুস সোবহান মিয়ার। কাজ থাকলে দিনে পান ৪০০ টাকা। এতে খরচ মেটে না। তিনি বলছিলেন, কোরবানির ঈদের পর মাংস মুখে ওঠেনি। উচ্চ মুল্যের কারণে মাছ কেনার সামর্থ্যও কমেছে। দাওয়াতে না গেলে মাছ-মাংস খাওয়া হয় না।
সাদুল্লাপুর উপজেলার পুরান লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান। গ্রাম ঘেঁষে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। কিন্তু তেমন মাছ মেলে না। জেলে নির্মল চন্দ্রের ভাষ্য, সারাদিন জাল ফেলে তিন কেজি চালের টাকা হয় না। তাই মাঝেমধ্যে রিকশা চালান। মাছের চাহিদা ক্রমেই বাড়লেও এ উপজেলায় কমছে উৎপাদন। সাদুল্লাপুরে বছরে চাহিদা ৫ হাজার ৮৫৪ টন। কিন্তু উৎপাদন হয় চার হাজার ৭১২ টন মাছ। বছরে ঘাটতি ১ হাজার ১৪২ টনের। উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে এমন তথ্য। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারি কর্মসূচিও বন্ধ। কারণ মৎস্য কর্মকর্তাই যে নেই। এক বছর ধরে শূন্য পদটি।
একজন করে ক্ষেত্র সহকারী ও অফিস সহায়ক দিয়ে চলছে দপ্তরের কার্যক্রম। পলাশবাড়ীর মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার সাদুল্লাপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, পলাশবাড়ীর কাজের চাপে সাদুল্লাপুরে তেমন আসা হয় না। কর্মকর্তা পদায়ন জরুরি। একা দুটি দায়িত্ব পালন কষ্টের। মৎস্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, উপজেলায় পুকুর আছে ৫ হাজার ৬১০টি। সরকারি খাস জলাশয় ২০টি। নিবন্ধিত মৎস্যজীবী আছেন ২ হাজার ২৫৮ জন। কিন্তু চাষিদের প্রশিক্ষণ বন্ধ। ফলে মাছ উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারছেন না তারা। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে মৎস্য চাষ করতেন কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের সাব্বির আহম্মেদ। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে পুকুরে সেচ দিতেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ শিল্প মিটার নিতে বলেছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষ বাদ দিয়েছেন। সাদুল্লাপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম নুরুজ্জামানের ভাষ্য, শিল্প মিটারে প্রতি ইউনিটের বিল ৯ টাকা ৮৮ পয়সা। কৃষি মিটারে ৪ টাকা ৮২ পয়সা। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনায় মৎস্যকে শিল্প খাত ধরা হয়। এক সঙ্গে মাছ আর হাঁসের চাষ করতেন ধাপেরহাট তীলকপাড়ার আমিনুল ইসলাম। তবে আড়াই বছরেই সব বন্ধ। তিনি বলেন, খাদ্যের দাম বাড়ায় কুলাতে পারছেন না। অন্য ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন। সাদুল্লাপুর বাজারের ফিড ব্যবসায়ী জ্যোতিষ চন্দ্র সরকার জানান, মাছের দানাদার খাবারের দাম প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। পোনা মাছের খাবারও কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।
সাদুল্লাপুর বাজারে গেলে আড়তদার কোরবান আলী জানান, বছরের ব্যবধানে দেশি মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। চাষের মাছও কিনতে হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। মাছ বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষ কম আসেন। চাষের সিলভার কার্প মাছ এখন ১৮০ টাকা কেজি। এক বছর আগে ছিল ১২০ টাকা।
এ ছাড়া পাঙাশ ১০০ থেকে বেড়ে ১৬০, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৭০, ২৫০ টাকার রুই ৩২০, কাতল ২০০ থেকে ২৬০, মৃগেল ১৫০ থেকে ২২০, বাটা ১২০ থেকে ১৬০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৬০০, শিং ৩০০ থেকে ৪০০ এবং চাষের কই ১৬০ থেকে বেড়ে ২৪০ টাকা হয়েছে। দেশি মাছের দাম চড়া। এ মাছ নিম্ন আয়ের মানুষের কেনা সম্ভব নয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। মাছে-ভাতে বাঙালি প্রবাদটি মানুষ ভুলতে বসেছে বলে জানান ক্রেতা আশরাফ হোসেন বাবলু।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com