শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারিশিল্প কারখানা উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়াত্ত ৬টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ রাখার প্রতিবাদে শনিবার মহিমাগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ ও আখ ক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীরা। প্রতিবাদ সমাবেশের পর তারা সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে চিনিকল চালুর দাবী মানা না হলে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ ও চিনিকলের আওতাধীন সকল জমির দন্ডায়মান আখ আগুনে পুড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন।
গতকাল সকাল ৯টা থেকে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সামনে গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকে। এ সময় এ পথে চলাচলকারী ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। বেলা ১২টা পর অবরোধ তুলে নিয়ে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, আখচাষী সমিতি, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, অওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এর সাথে ২৪ ডিসেম্বর মহিমাগঞ্জ এলাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে। এরমধ্যে দাবী মানা না হলে আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, গণঅনশন ও চিনিকলের আওতাধীন সকল জমির দন্ডায়মান আখ আগুনে পুড়ে দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময়েই মিলস গেট সাবজোনের গোপালপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান নামের এক আখচাষী বেলা ১টার সময় তার এক একর জমির আখে আগুন লাগিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সোনাতলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষুব্ধ আখচাষী জিল্লুর রহমান বলেন, রংপুর চিনিকলের চেয়ে ছোট জয়পুরহাট চিনিকলে আখ দিতে গেলে তাদের জমিতেই আখ শুকিয়ে যাবে। ছয় মাসেও তারা আখ মাড়াই করতে পারবেনা। এর ফলে ধানের আবাদও করা সম্ভব হবে না। তাই এ আখ পুড়িয়ে দিলে আগামী বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ করা যাবে।