শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বন্ধ সংযোগ সড়কের কাজ

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বন্ধ সংযোগ সড়কের কাজ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সুন্দরগঞ্জে তিস্তা পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। নির্মাণের অনেক আগে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ৯০ শতাংশ মালিক এখনও টাকা পাননি। অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণে এ সমস্যা দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, এলজিইডি ও এলাকাবাসীর। এ অবস্থায় ফের পেছাতে পারে সেতু নির্মাণের সময়সীমা।
তিস্তা গার্ডার সেতু নির্মাণ করছে চীনা ও ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্যয় ধরা হয় ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতুর জন্য ২৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, সড়কের জন্য ১০ কোটি ২৫ লাখ, নদী শাসনে ৮ কোটি ৫৫ লাখ এবং জমি অধিগ্রহণে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সেতুর ৩০টি পিলারের মধ্যে ২৮টি নদীর ভেতরের অংশে এবং দুটি বাইরে থাকবে। সেতুর উভয়পাশে নদী শাসন করা হবে ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার করে। সড়ক নির্মাণ করা হবে ৫৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে চিলমারী মাটিকাটা মোড় থেকে সেতু পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং সাদুল্যাপুর ধাপেরহাট থেকে হরিপুর সেতু পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার। চিলমারী অংশে অ্যাকসেস সড়ক সেতু থেকে কাশিম বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং গাইবান্ধা ধাপেরহাট থেকে হরিপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার।
২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি হরিপুর-চিলমারী তিস্তা সেতুর ভিত্তি উদ্বোধন করা হয়। ২০১৮ সালে কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সেতুসহ সড়ক নির্মাণের জন্য গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কুড়িগ্রাম জেলার ২০ একর ভূমি অধিগ্রহণ হলেও গাইবান্ধায় নির্ধারিত ১৩৩ একর এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ হয়নি। পরে ২০২০ সালের ৬ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর-চিলমারী উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ সড়কের জন্য তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়। ২০২১ সালে কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এরপরও সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এখন পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের ৬০ শতাংশ এবং সেতু নির্মাণের ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে এর মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে না বলছে এলাকাবাসী।
তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আ. ব. ম শরিয়তুল্লাহ মাস্টার বলেন, ২০০০ সাল থেকে তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের শুরু। ২০১৪ সালে কাজের সূচনা হয়। এখন কাজের অগ্রগতি দেখে মনে হচ্ছে চলতি বছরেও কাজ শেষ হবে না।
এলজিইডির কমিউনিটি অর্গানাইজার নুরুজ্জামান সরকার বলেন, জেলার ৬ হাজার দাগের জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বসতভিটা, দোকানপাট, গাছপালা, আবাদি জমি, পুকুর, নিচু জলাশয় রয়েছে। ওইসব দাগের ভূমি মালিকদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ মালিক ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেয়েছেন এবং ৯০ শতাংশ মালিক টাকা পাননি। মূলত সাদুল্যাপুর ধাপেরহাট থেকে হরিপুর সেতু পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার এলাকার ভূমি নিয়ে জটিলতার কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণের টাকার জন্য জেলা শহর গাইবান্ধায় যাতায়াত করতে ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান ম-লের হাট এলাকার ভূমি মালিক দীপু সরকার। তাঁর ভাষ্য, ছয় বছর ধরে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ১০ শতক ফসলি জমি পড়ে রয়েছে। সরকার টাকাও দিচ্ছে না, আবার আবাদও করা যাচ্ছে না। একই অভিযোগ উপজেলার চ-ীপুর গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা না দিয়ে তাঁর জমিতে ছোট সেতু নির্মাণ হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে টাকার জন্য ডিসি অফিসে যাতায়াত করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টাকা পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তাঁর মতো অনেকে।
এ বিষয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন হক্কানী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সুমন হক্কানী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। জটিলতা কেটে গেলেই কাজ শেষ করা যাবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মানাফ জানান, তিনি সম্প্রতি উপজেলায় যোগদান করেছেন। এখন পর্যন্ত তিস্তা পিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাননি। তবে যেসব অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে তা সমাধান করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
সেতু নির্মাণ কনসালট্যান্ট ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, মূল সেতু নির্মাণকাজ শেষের দিকে। ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে একটু সমস্যা রয়েছে। সেটিও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com