বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
খোর্দ্দকোমরপুর ইউপির উপনির্বাচন স্থগিত কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিঃ গাইবান্ধায় আ’লীগ-বিএনপির অফিসে-হামলা-অগ্নিসংযোগ সুন্দরগঞ্জে কোটা নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সুন্দরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের লাশ একদিন পর উদ্ধার গোবিন্দগঞ্জে ২ মাহিলা ছিনতাইকারী গ্রেফতার মহিমাগঞ্জে প্রধান গ্রুপের সার্ভার স্টেশনে অগ্নিকান্ডে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি পলাশবাড়ীতে মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ঃ আহত ১ জন গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ তিস্তার পানি কমার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে পলাশবাড়ীতে মটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত

ব্রহ্মপুত্রে ৪৬ সে.মি. নদীর পানি বিপৎসীমার উপরেঃ বন্যার পানি কমছেঃ দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় অনেকের পায়ে ঘা ধরেছে

ব্রহ্মপুত্রে ৪৬ সে.মি. নদীর পানি বিপৎসীমার উপরেঃ বন্যার পানি কমছেঃ দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় অনেকের পায়ে ঘা ধরেছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধায় সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমলেও গাইবান্ধা সদরসহ সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষদের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। তবে সবগুলো নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এখনও বিপদসীমার ৪৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট ও বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর ও উঠান থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে পানি নেমে গেলেও অনেক বাড়ির আঙ্গিনায় কাঁদা দেখা গেছে। রাস্তা-ঘাটগুলো কদমাক্ত। ফলে ওইসব এলাকার মানুষ এখন চলাফেরা করতে ভোগান্তিতে রয়েছেন। তবে একেবারেই নিচু এলাকার বাড়ি-ঘরগুলোতে এখনও পানি রয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক যাদের জীবন-জীবিকা চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। পানি নেমে গেলেও বন্যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুর এই পরিবারগুলো। বন্যাকবলিত এসব মানুষের জন্য বরাদ্দ দেয়া ত্রাণও জোটেনি বলে অভিযোগ ছিল এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষের।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকার তারাজুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়িতে পাঁচদিন ধরে বন্যার পানি ছিল। গত দুই-তিন দিন ধরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও আমাদের দুর্ভোগ কিন্তু কমেনি। তিনি আরও বলেন, বন্যা এসে কর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। আয়-রোজগার না থাকায় অনেক কষ্ট করে দিন যাচ্ছে। পাঁচদিন পানিতে ডুবে থাকলাম কোনো মেম্বার-চেয়ারম্যান খোঁজ নেয়নি।
একই এলাকার সাহেরা বেগম বলেন, বেশিরভাগ বাড়ি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও আমার বাড়ি থেকে এখনো পানি নেমে যায়নি। পানিতে থাকতে থাকতে পায়ে ঘা ধরেছে। আমরা গরিব মানুষ কোনো ত্রাণ পায়নি।
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, চারদিন থেকে পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে এখনো চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়ি ঘরে পানি রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৬৫ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা বিতরণ করা হয়েছে। এনজিওরাও সহযোগিতা করেছে।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুল হক বলেন, চলমান বন্যায় সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার ২৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। গত চারদিন থেকে পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আশা করা যায় আগামী সপ্তাহেই বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com