বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:০১ অপরাহ্ন

বাজারজাত করণের সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্প

বাজারজাত করণের সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি শিল্প

স্টাফ রিপোর্টারঃ পুঁজি সংকট, বাজারজাতকরণে সমস্যাসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধার হোসিয়ারি শিল্প। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে টানা হরতাল-অবরোধ। পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে ভরা মৌসুমেও প্রচুর শীতবস্ত্র অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। এ কারণে অনেক কারখানার মালিক উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শিল্পের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী।
উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের কোচাশহর, ধারাইকান্দি, রতনপুর, ছয়ঘড়িয়া, জগদীশপুর, শক্তিপুর, বনগ্রাম, পেপুলিয়া, মুকুদপুর, নয়ারহাটসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে দুই হাজারের বেশি হোসিয়ারি শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সোয়েটার, কার্ডিগান, ব্লাউজ, মাফলার, মোজা, ছোটদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র তৈরি হয়। এসব পোশাক ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ দেশের সব জায়গায় সরবরাহ করা হয়।
কোচাশহর ইউনিয়নের নয়ারহাট হোসিয়ারি শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। এখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শীতবস্ত্রের দোকান রয়েছে। প্রত্যেক দোকান মালিকের নিজস্ব কারখানা আছে। পোশাক কারখানার ঝুট কাপড় কিনে এনে তারা হোসিয়ারি পণ্য তৈরি করেন। শীতের সময় এর চাহিদা বেশি থাকায় রাতদিন কর্মব্যস্ত সময় কাটান শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে লাখ লাখ টাকার পণ্য নিয়ে যান। তবে এবার টানা হরতাল-অবরোধে উল্টো চিত্র। দুই হাজারেরও বেশি কারখানায় শত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শীতবস্ত্র পড়ে রয়েছে। বেশির ভাগ কারখানার মালিক অর্থ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ী জোবায়ের শেখ জানান, পাইকার না আসায় দোকানে এখন লাখ লাখ টাকার তৈরি পোশাক আটকা পড়েছে। ফলে পুঁজি সংকটে পড়েছেন কারখানা মালিকরা।
কারখানার মালিক মোঃ আলম জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পোশাক তৈরি করে মজুত করেছি। শীতের সময় বিক্রি করা বেশ লাভজনক। কিন্তু এবার টানা হরতাল-অবরোধের কারণে দূরের পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে আমাদের দোকান ভাড়াসহ শ্রমিকের মজুরি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য আটকে আছে।
নয়াহাটের ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, আগে শীত মৌসুমে এ বাজারে দৈনিক কোটি কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হয়েছে। সবাই কর্মব্যস্ততায় সময় পার করেছেন। টানা হরতাল-অবরোধের কারণে বিক্রি না থাকায় হাত গুটিয়ে বসে আছেন। দোকান ভাড়া ও শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের পুঁজি হারাতে হবে।
এ ব্যাপারে বিসিক গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক রবীন চন্দ্র রায় বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
হোসিয়ারি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, শীতের পোশাক কিনতে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসতেন। গত বছরে মৌসুমে অর্ধশত কোটি টাকার তৈরি পোশাক বিক্রি হয়েছে। এবার পাইকার না আসায় ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com