বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

বর্ষার শুরু না হতেই ভাঙনের তীব্র রুপঃ বাড়ি ঘর সরানো নিয়েই চিন্তিত

বর্ষার শুরু না হতেই ভাঙনের তীব্র রুপঃ বাড়ি ঘর সরানো নিয়েই চিন্তিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ নদী বেষ্টিত এলাকা সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা। দুই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও আলাই-বাঙ্গালী নদী। সাঘাটার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ও ফুলছড়ির ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন নদী বেষ্টিত হওয়ায় প্রতিবছর বন্যা ও নদী ভাঙন সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়েই বেঁচে থাকে এখানকার মানুষ। এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই রুদ্ররুপ নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙন। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙনের কবল থেকে সরানো নিয়ে ব্যস্থ এখন তারা।
২০ দিন আগেও নদী এলাকার চরাঞ্চলে ছিল ধু ধু বালির স্তর। অনেকটা মরুভুমির ন্যায়। কয়েকদিনের ব্যবধানে ঘুর্নিঝড় আম্ফানের পর টানা বর্ষণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে গত এক সপ্তাহে দুই উপজেলায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়নের বাশঁহাটা ও বড়মতাইড় গ্রামে স্রােতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে এ ইউনিয়নের প্রায় ৫ একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ভরতখালী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আজাদ শীতল জানান, যখন শুকনো মৌসুম থাকে তখন বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কাজ চোখে পরেনা। বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন দেখা দিলেই শুরু হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৌড়-ঝাঁপ। নদী ভাঙনের শিকার বড়মতাইড় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, দুই উপজেলার চিরচেনা গ্রামগুলো নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। অল্প দিনের ব্যবধানে চোখের সামনে গ্রাম গুলো নদীতে চলে গেল। এদিকে বাঙালী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে চরপাড়া, জালালতাইড়, বাঙাবাড়ি, চন্দনপাট, কচুয়া, গুজিয়া, রামনগর ও ত্রিমোহনী গ্রাম। এসব গ্রামের মানুষ ভাঙনে পড়ে কয়েক বার করে বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়েছেন। অর্ধশত পরিবার মাথাগোজার ঠাঁই হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ৩বার ভাঙনের কবলে পড়ে বাড়ির জায়গা হারানো কচুয়া গ্রামের আবদুস সামাদ জানান, ৪ বিঘা বাড়ির ভিটা ও ১০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। কষ্ট করে এখন অন্যস্থানে বসবাস করছেন বলে জানান তিনি। গত ১০ বছরে অন্তত ৮ বিঘা ফসলি জমি ও বাড়ির ভিটা নদীর বুকে চলে গেছে বলে জানালেন, রামনগর এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম। গত কয়েকদিনে নদীতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে আরও শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, গত দুই বছরে হলদিয়া ইউনিয়নের ২টি মসজিদ, একটি কবর স্থান ও ৫ কিমি পাকা রাস্তাসহ ৩শতাধিক পরিবারের বসতভিটা যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অসহায় মানুষগুলো অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করছেন। এখনো হুমকির মুখে একটি ত্রি-তলা মাদরাসা, ৪ টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২টি ঈদগাহ মাঠসহ আরো কয়েক হাজার পরিবার ও তাদের ফসলি জমি। ভাঙনের কবল থেকে ঘর-বাড়ী,আসবাস পত্র সড়াতে ব্যস্ত মানুষ গুলো এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী ও খাটিয়ামারি, ফজলুপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় যমুনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে এ এলাকার মানচিত্র পাল্টে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশে গেছে। ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, দুই বছরে খাটিয়ামারি বাজারের শতাধিক স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। দুর্গম চরের কারণে এই স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন কাজ করে না। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ অব্যাহত আছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com