বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

ধাপেরহাটে হাট কুড়িয়ে সংসার চালায়ঃ ওরা হাট কুড়ানি

ধাপেরহাটে হাট কুড়িয়ে সংসার চালায়ঃ ওরা হাট কুড়ানি

ধাপেরহাট (সাদুল্লাপুর) প্রতিনিধিঃ হাট কুড়ানিদের দুঃখের কথা শুনতে যদি চাও,হাট শেষে গভীর রাতে হাট খোলাতে যাও। মশাল, কুপি বাতি, মিটি মিটি নিভু নিভু আলোয় কোমর হালিয়ে, কেউবা বসিয়ে দু’হাত দিয়ে নোংরা আর্বজনায় খুজে খুজে টাকা পয়সা বের করে, জানেন কি? ওরাই হাট কুরানি নামে পরিচিত। এই হাট কুরানি নামটির সাথে অনেকেই বেশ পরিচিত। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে এ প্রজন্মের অনেকেই এদেরকে চিনবে না। হাট শেষে হাটুরে এবং দোকানীদের মনের ভুলে ফেলে যাওয়া, টাকা পয়সা দ্রব্য সামগ্রী পই পই করে খুজে খুতিয়ে খুতিয়ে সংগ্রহ করাই এদের মুল পেশা।
এ দিয়েই চলে এদের সংসার। বিশেষ করে গ্রাম গঞ্জের হাটগুলো রাত ১০/১১টার পর ফাঁকা হয়। ক্রেতা বিক্রেতারা হাট শেষে যখন চলে যায় নিজ নিজ বাড়ীতে, ঠিক তখনি শুরু হয় এই হাট কুড়ানীদের কর্ম। এরা সারারাত হাট কুরায় আর দিনে ঘুমায়। আগের মতো এ কাজে আর পোশায় না তাদের। এ আধুনিক যুগে খুচরা পয়সার প্রচলন কমে গেছে। নেই আর সেই আগের টাকা রাখার কাপড়ের খুতির ব্যবহার। মানুষ সচেতন হয়েছে। টাকা পয়সা সাবধানে রাখে। তাই আর মনের ভুলে ফেলেও যায় না। এমনি মতামত ব্যক্ত করেছেন হাট কুড়ানিরা।
হাট কুড়ানির কয়েকজন সদস্য জানান, আগে, সন্ধার পর দোকানীরা মশাল কুপি বাতি আলোতে বেচা বিক্রি করত। আলো কম থাকায় টাকা পয়সা মাটিতে পরে যেত। এখন বৈদ্যুতিক বাল্ব জালিয়ে রাতে দোকান চালায়, টাকা পয়সা আর আগের মতো মনের ফুলে ফেলে যায় না। ভালো ভাবে আলোতে দেখে শুনে গুছে নিয়ে যায়।
গত সোমবার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট হাট খোলায়, রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নিভু নিভু বেশ কয়েকটি আলো দেখা যায় ওই হাট খোলায়। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি হাট কুরানিরা হাট কুড়াচ্ছে। দু’জন হাট কুড়ানি শেফালি রানী ও মাইয়া বেওয়ার সাথে কথা হয়, শেফালী রানী জানায়, তিনি দীর্ঘ ২৫/২৬ বছর থেকে হাট কুড়িয়ে সংসার চালায়। ১৫/২০ বছর আগে তারা মাঝে মধ্যেই মোটা অংকের টাকা পয়সা কুড়িয়ে পেত। এখন তেমনটা পাওয়া যায়না। এখন পওয়া যায় মরিচ, পিয়াজ, আদা, আলু, বেগুনসহ খাদ্য সামগ্রী সমূহ। এসব দ্রব্য হাট শেষে কুড়িয়ে কুড়িয়ে একত্রে জমা করে পরিবারের যে টুকু খেতে লাগে সেটা রেখে বাকিটা বিক্রি করেন শেফালী রানী। তিনি আরও জানান, আগে কেরাসিনের কুপি বা মশাল জ্বালিয়ে হাট কুড়াতাম। এখন মশাল কুপি বাতি দুুুুুুস্পাপ্য, তাই এখন হাট কুরাই টর্চ লাইট, ম্যাচ লাইট, কখনো গ্যাস বা চার্জার লাইট জালিয়ে।
অপর হাট কুরানি মাইয়া বেগম জানান, মোর স্বামী মারা গেছে প্রায় ১২ বছর আগে। সংসারে মোর ৪জন ছেলে মেয়ে আছে। মুই অনেক দিন থাকি হাট কুড়াও। এখন মানুষ জন মনের ভুলে আর পয়সা পাতি ফেলে যায়না। ২০ বছরের হাট কুড়ানোর জীবনে, প্রায় ১৪ বছর আগে, মুই একবার সাড়ে ৮ হাজার টেকা কুড়ে পাছিনু। এছাড়াও প্রতি হাটে মাঝে মধ্যেই ৫০/৬০/১০০/২০০টাকা কুড়ে পাওয়া যায়। কোনদিন আবার এর বেশিও পাওয়া যায়। তবে, খাদ্য সামগ্রীসহ অন্যান্য জিনিষপত্র পাওয়া যায়। এ দিয়েই চলে আমাদের সংসার। তিনি আরো জানান, আমরা চুরি করিনা,কারো ক্ষতি করিনা, মানুষের ফেলে রেখে যাওয়া জিনিষগুলি আমরা রাতের আধারে কুপি বাতি জালিয়ে খুজে খুজে বেড় করে সংসার চালাই। আমরা হাট কুড়ানি।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com