মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুঃ প্রাণ ফিরেছে গাইবান্ধার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে

দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুঃ প্রাণ ফিরেছে গাইবান্ধার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেড় বছর পর সরকারের ঘোষণায় দেশব্যাপী খুলেছে স্কুল-কলেজ। এতে সারাদেশের ন্যায় প্রাণ ফিরেছে গাইবান্ধার স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয় দীর্ঘদিনের নির্জীব ক্যাম্পাস। অনেকদিন পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে হয়েছে প্রাণের সঞ্চার। দীর্ঘদিন পর সশরীরে ক্লাসে বসার আনন্দ ছিল তাদের চোখে-মুখে। গতকাল রোববার সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ঘুরে দেখা গেছে- সকাল থেকে পিঠে ব্যাগ, মুখে মাস্ক পড়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করছেন তাদের প্রতিষ্ঠানে। প্রবেশের সময় গেটে তাদের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। এরপর তাদের হাত ধুয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করানো হচ্ছে। ক্লাসে বসানোর ক্ষেত্রেও একজন অপরজন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা হচ্ছে। শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইবতে শামুর রহমান বলেন, অনেক দিন অনলাইনে ক্লাস করেছি। আজ সশরীরে ক্লাস করছি। সবাইকে নিয়ে ক্লাস করায় খুব আনন্দ লাগছে। আশা করি আমরা এভাবে পড়ালেখা করতে পারবো।
তবে এসব শিক্ষার্থীর সাথে অনেক অভিভাবক এসেছেন বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে । জানতে চাইলে অভিভাবক সানজিদা সুলতানা বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। শহরে এতো ছোটো বাচ্চাকে তো একলা ছেড়ে দেওয়া যায় না। তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি। আমি বাইরে অপেক্ষায় আছি। ছেলে বের হলে এক সঙ্গে যাবো।
গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান স্কুল ও কলেজের এসএসসি ২২ সালের শিক্ষার্থী “অমেনা ফেরদৌসি” এর সাথে কথা হলে সে জানায়- অনেক দিন পর স্কুল খোলায় খুব ভাল লাগছে। স্কুল খোলায় সহপাঠীদের কাছে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে। স্কুল বন্ধ থাকায় কোচিং প্রাইভেট পড়ে সময় কাটিয়েছি। বাসায় থাকার থেকে আমার স্কুলই ভাল লাগে। আশা করি এখন থেকে আমরা এভাবে পড়ালেখা করতে পারবো। তবে স্কুলের ভেতর বেশ কড়াকড়ি করা হলেও বাইরে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গাইবান্ধা শহরের আসাদুজ্জামান স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান ইদ্রিস আলী সরকার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান- সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রুটিন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলার প্রথম দিনে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং স্কুলের রুটিন বিষয়ে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন- গতকাল রোববার শুরুর দিনে এসএসসি ২০২১ ব্যাচ, এসএসসি ২০২২ ব্যাচ শ্রেণির ক্লাস চলছে। ৬ ষ্ঠ থেকে ৯ম সপ্তাহে ১ দিন দুই ঘন্টা করে দুটা সাবজেক্ট ক্লাস ওএসএসসি ২০২১ ব্যাচ, এসএসসি ২০২২ ব্যাচ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে দুই দিন দুই ঘন্টা ক্লাস করবে। শিডিউল ভিত্তিক এভাবে প্রতিদিন ক্লাস চলবে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধান সরকারের প্রতিনিধিদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল মতিন এর সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদান করে এ জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানগনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে সাথে প্রথমদিন কিছুটা ব্যত্যয় ঘটলেও পরে তা ঠিক হয়ে যাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অভিভাবকদের ভিড়ের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বাইরে ভিড় না
করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কারণ, আগে সব ক্লাস একসঙ্গে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকতো। এখন আলাদা আলাদা হওয়ায় তেমন ভিড় নেই। তারপরও অনেক অভিভাবক সন্তানদের শঙ্কায় এসেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রয়োজনে মাইকিংসহ প্রচারণা করা হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুইটি শ্রেণির পাঠদান অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী একটি রুটিনও প্রণয়ন করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, গতকাল রবিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে
বিষয়টি না জেনে অনেক অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে চলে আসতে দেখা গেছে। ৫৪৩ দিন পর অর্থাৎ প্রায় দীর্ঘ দেড় বছর পর শ্রেণিকক্ষের দ্বার খুলল গতকাল রবিবার। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় প্রথম ধাপে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে গতকাল। শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগে থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। শ্রেণি কার্যক্রম প্রস্তুতি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বরণ করতে সাজানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষ।
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ১৭ মার্চ হতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গতকাল রোববার খুলে দেওয়ায় আনন্দিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মচারীগণ। চিরচেনা শিক্ষাঙ্গন মাঠে সহপাঠীদের দেখতে পেয়ে উচ্ছাসিত শিক্ষার্থীরা। সরকারি বিধি মেনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা সমূহে সর্ব্বোচ স্বাস্থ্য বিধি মেনে পাঠদান শুরু করে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে বরণ করে নেয়া হয়। উপজেলার বেলকা মণিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে মাস্ক ও একটি চকলেট বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুর আলম, ইউ,আর,সি ইনস্ট্রাকটর মোঃ আব্দুল বাকি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা সাজেদা খাতুন,অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com