শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ তাপদাহের পর গাইবান্ধায় স্বস্তির বৃষ্টি

দীর্ঘ তাপদাহের পর গাইবান্ধায় স্বস্তির বৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেরিতে হলেও ভারী বৃষ্টিতে স্বস্তি নেমেছে গাইবান্ধার কৃষকদের মনে। গত কয়েকদিন ধরে তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও তাদের মূল দুশ্চিন্তা ছিল আমন চাষ নিয়ে। ভরা বর্ষায়ও এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় মাঠ ফেটে আমনের চারা শুকিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছিলেন তারা। তবে বৃষ্টি তাদের সেই শঙ্কা দূর করে স্বস্তি এনে দিয়েছে। কয়েকদিনের খরার পর শ্রাবণের শেষে এসে গাইবান্ধায় কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে সতেজ হয়ে উঠেছে আমনক্ষেত।
চাষিরা জানান, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে এতোদিন ফেলে রাখা জমিগুলোতে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। বৃষ্টির কারণে সেচের খরচ বেঁচে যাবে বলে খুশি চাষিরা।
সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার কৃষক রিয়াজউদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আষাঢ়ের বৃষ্টি অনেক দেরিতেই এসেছে। জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহ থেকে আষাঢ়ের মাঝামাঝি পার হলেও বৃষ্টির দেখা মেলেনি। বৃষ্টি শুরু হয় আষাঢ়ের শেষে এসে।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এলাকার কৃষক বজলার রহমান, আশরাফুল, রাহাত মিয়া, জাফরসহ অনেকেই চারা লাগানো ক্ষেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করেছেন। তারা জানান, বৃষ্টি না থাকায় টাকা খরচ করে জমিতে সেচ দিয়ে চারা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এতদিন পানির অভাবে ধানের তেমন একটা বাড়বাড়তি হয়নি। এখন আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হওয়ায় আমরা খুব খুশি।
সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের খামার পীরগাছার রওশন মিয়া তিন বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন। তিনি জানান, এ সময় বৃষ্টি আমন ধানের জন্য খুব দরকার। বৃষ্টি না হলে সেচ দিয়ে আমন ধান রক্ষা করতে হতো না। বৃষ্টি হওয়ায় সেচের বাড়তি টাকা খরচ থেকে রেহাই পেয়ে তারা সবাই খুশি। তাদের মতো হাজার হাজার আমন চাষির মাঝে এই বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদ করার জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বীজতলার কাজ শুরু করেছেন জেলার কৃষকেরা। আষাঢ়ের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে আমন রোপণ শুরু করে তারা। এখন আষাঢ়ের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কৃষকদের খরচ অনেক কমে যাবে। তবে এই বৃষ্টি টানা কয়েকদিন হলে অথবা বন্যা হলে তাদের ধান আবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর তথ্যমতে, চলতি বছরে গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com