বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

দালালের শব্দখেলায় ঠকছেন পশু ক্রেতা-বিক্রেতা

দালালের শব্দখেলায় ঠকছেন পশু ক্রেতা-বিক্রেতা

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ দাড়িয়াপুর হাটে গরু বিক্রি করতে এসেছিলেন সাদুল্লাপুরের আনছার আলী। হাটে ঢুকেই দেখেন দালালের দৌরাত্ম্য। গরু নিজেদের কবজায় নিতে তারা নানাভাবে তৎপরতা শুরু করে। এ জন্য পুরো সময় সর্তক থাকতে হয়েছে তাঁকে। গত শুক্রবার একই হাটে এসেছিলেন ক্রেতা খলিল মিয়া। তিনি বলছিলেন, দালালরা নিজের কমিশন রাখে গোপন শব্দের ব্যবহারে। ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে লেনদেন হলেই তারা হাতিয়ে নেয় কমিশন।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা আসছে। আঞ্চলিক হাট থেকে কিছুটা কম দামে গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া কিনে বিক্রি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতারাও আসছে। এ সুযোগে তৎপর হয়ে উঠেছে দালালরা। শব্দের মারপ্যাঁচে তাদের কাছে ঠকছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। সাদুল্লাপুর এবং আশপাশের হাটে দালালরা নিজেদের তৈরি শব্দ বেশি ব্যবহার করে। এসব শব্দের মাধ্যমে টাকার কমিশন বুঝে নেয় তারা।
কয়েকজন দালালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর্থিক লেনদেনে তারা ১০০ টাকা বোঝাতে কিছু শব্দ ব্যবহার করে। যেমন ব্যবহার করে ডোংগা শো (৩০০), চামটি শো (৪০০), বর্ণি শো (৫০০), টিপি শো (৬০০), ঝালি শো (৭০০), কাটা শো (৮০০), খুটাল শো (৯০০), দিক শো (১০০), কালাই শো (১১শ), বছর শো (১২শ), মিথি শো (১৩শ), দিকবর্ণি শো (১৫শ), দিক ঝালি (১৭শ) এবং ডোঙ্গা হাজার (২ হাজার) শব্দ।
পশু বিক্রির হাটে দর-দামের সময় এক দালাল আরেক দালালের সঙ্গে এসব শব্দে কথা বলে। তাদের এ শব্দগুলো কোন দেশের বা কোন সংস্কৃতির, সেটি কারও জানা নেই। এগুলো বোঝে শুধু তারাই। দালাল খয়বর হোসেনের ভাষ্য, এসব না জানলে কেউ দালালি করতে পারবে না। এগুলো জেনে হাটে গেলে ঠকার আশঙ্কা কম।
দালালরা জানিয়েছে, তারা শিংগি (৩) হাজার, চামটি (৪), বর্ণি (৫), ঝালি (৭), কাটা (৮), খুটাল (৯), দিক (১০), কালাই (১১), বছর (১২), মিথি (১৩), দিক চামটি (১৪), দিক বর্ণি (১৫), শুতলি (১৭), ভিড়া (২০) ও আদি (৫০) হাজার শব্দ ব্যবহার করে। গত সোমবার মাটেরহাট থেকে গরু কিনে দালালকে ৬০০ টাকা দিয়েছেন নলডাঙ্গা কলেজপাড়ার শিফাত হোসেন। তিনি বলেন, হাটে দালাল ছাড়া গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয় অসম্ভব। তাদের দৌড়াত্ম্য রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত। অন্যথায় ঈদ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা দালালের খপ্পরে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
দালালদের তৈরি এসব শব্দ কোনো পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ নেই বলে জানান সাদুল্লাপুর সরকারি কেএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক। তিনি বলেন, এগুলো কিছু মানুষের নিজেদের বানানো এক ধরনের সাংকেতিক শব্দ। এগুলো শুধু এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই জানে ও বোঝে। এ শব্দ অন্য সবার জানার আগ্রহ থাকে না।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com