বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

জারোত গাও কাঁপে বাবা কেউও কম্বল দেয় না

জারোত গাও কাঁপে বাবা কেউও কম্বল দেয় না

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ নিভৃত গ্রামের সুফিয়া ও ময়না বেওয়া। পেটের তাগিতে বেড়িয়েছেন ভিক্ষা সংগ্রহে। এদিকে শীতের তীব্রতায় শরীর কাঁপছিলো তাদের। পড়নে নেই গরম কাপড়। ভিক্ষার পাশাপাশি অনেকের কাছে আকুতি জানাচ্ছিলেন একটি কম্বলের জন্য। তবে কেউ রাখলেন তাদের কথা। এরই মধ্যে ক্যামেরা বন্দী মুহূর্তে এই সুয়িয়া-ময়না বলেন- জারোত (শীত) গাঁও কাঁপে বাবা, কেউও একটা কম্বল দিলো না।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ায় এভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সুফিয়া ও ময়না বেওয়া। তারা পেশায় ভিক্ষুক। শীতে তীব্রতায় জবুথবু অবস্থায় পড়ছেন। তবুও শীতের কাঁপুনি নিয়ে বেড়িয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে।
জানা যায়, পৌষের শেষ সপ্তাহ এসে উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। কনকনে শীতে যবুথবু হয়ে পড়ছে বয়স্ক ও শিশুরা। আর এই ঠান্ডার কবলে অনেকের দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছে ওইসব রোগির স্বজনরা। দেখা গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগিদের ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা নেওয়ার চিত্র। এখানে আসা অধিকাংশ রোগি ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
জানা যায়, এ অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে সূর্য্যের মূখ দেখা মেলে না। চারদিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। সেই সঙ্গে উত্তরের মৃদু হিমেল হাওয়া বইছে। দিনশেষে রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বাড়তে থাকে কুয়াশার দাপট। যেন বৃষ্টির মতো ঝড়ছে এসব কুয়াশা। এ কারণে বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। কনকনে এই ঠান্ডায় যবুথবু হওয়া মানুষগুলো নাজেহাল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে রয়েছে স্বজনরা। সবচেয় বেকায়দায় ছিন্নমূল পরিবারগুলো। এসব পরিবারে ধীরে ধীরে দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগের প্রকোপ। এসব রোগিদের কেউ নিচ্ছেন পল্লী চিকিৎসকের সেবা। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়াও শীতের কবলে বাদ পড়ছে না গৃহপালিত পশু-পাখি। আর বীজতলা নষ্টের আশঙ্কায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ছেন।
জামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আজগর আলী জানান, গরীব পরিবারের শ্রমজীবি মানুষ তিনি। অতি ঠান্ডায় একদিকে বিক্রি করতে পারছেন না শ্রম, অন্যদিকে তার শিশু সন্তান শ্বাসকষ্টে ভুগছে। সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহীনুল ইসলাম মন্ডল বলেন, কয়েকদিন ধরে শীতের কারণে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগির সংখ্যা বাড়ছে। তাদের যত্নসহকারে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com