রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোবিন্দগঞ্জে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সম্পা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালিয়ে গেছে পাষন্ড স্বামী। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
এজাহার সুত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের নয়াপাড়া কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের কন্যা সম্পা বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ফতেউল্লাপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে মাসুদ রানার ৩ বৎসর পুর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে মাসুদ রানা স্ত্রী সম্পা বেগমকে মারপিটসহ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসত। এরই জের ধরে গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে মাসুদ রানা তার পরিবারের অন্যান্যের পরামর্শে স্ত্রী সম্পা বেগমকে বেদম মারপিট করে আহত করে। আহত অবস্থায় সম্পা বেগম মোবাইলে ফোনে তাকে চিকিৎসার জন্য উদ্ধার করতে তার বাবাকে জানায়। করোনার কারণে ওইদিন যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় পরদিন ২৪ এপ্রিল সকালে সম্পা বেগম পায়ে হেটে পিতার বাড়ির দিকে রওনা হলে প্রায় ৫শ গজ দূর থেকে মাসুদ রানা ও তার ভাই ও বাবাকে নিয়ে আবার সম্পা বেগমকে আবার বাড়িতে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে অন্যান্যের সহযোগিতায় লাঠি দ্বারা বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করে। মুমুর্ষ অবস্থায় সম্পা বেগমকে একটি অটো ভ্রানে করে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্পা বেগমকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে সম্পা বেগম মারা যায়। এ অবস্থায় স্বামী মাসুদ রানা সহ অন্যান্যরা লাশ হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যায়। গত ২৩ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ম্াসুদ রানার মোবাইল ফোনে বার বার সম্পার খবর জানতে চাইলে প্রতিবারই সম্পার চিকিৎসা চলছে, ভাল আছে বলে জানায়। এ ঘটনায় সন্দেহ হলে হাসপাতালে খোজ নিলে সম্পা বেগম মারা গেছে এবং সাথে আসা লোকজন পালিয়ে গেছে জানা যায়। পরে শনিবার সকালে সম্পার লাশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে।