রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

গোবিন্দগঞ্জে নদী পারাপারে ভরসা দড়ি টানা নৌকা

গোবিন্দগঞ্জে নদী পারাপারে ভরসা দড়ি টানা নৌকা

স্টাফ রিপোর্টারঃ এপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রাম। ওপারে একই উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের কুঠিপাড়া। এই দুই গ্রামের বুক চিড়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী। এপারের ধর্মপুর গ্রামে পাকাসড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও একেবারে বিপরীত চিত্র নদীর ওপারের কুঠিপাড়ার। পাকা রাস্তা তো অনেক দূরের কথা গ্রামে যাওয়ার জন্য কোনো মেঠো পথও নেই। ভরসা একমাত্র দড়ি টানা নৌকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই তীরে বাঁশের সাথে শক্ত করে বাধা আছে একটি প্লাষ্টিকের দড়ি। নদীর উপর সেতু না থাকায় গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে দড়ি টানা নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দূর গ্রামে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। কৃষকরা তাদের পন্য সঠিক সময়ে বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে বদলে যেত কুঠিপাড়ার চিত্র।
কুঠিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানায়, আমরা প্রায় সারা বছরই পানিবন্দী থাকি। আমাদের গ্রামে আসা-যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তাই নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় স্বাধিনতার ৪৮ বছরেও তেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠার গড়ে উঠেনি। তাই এ গ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পাশের গ্রামে যেতে হয়। নদীর উপর সেতু না থাকায় দড়ি টানা নৌকা দিয়ে তাদের নদী পার হতে হয় । এতে প্রায় সময়ই দূর্ঘটনা ঘটে। তবে সব চেয়ে বেশি কষ্ট হয় বর্ষাকালে। এসময় নদীতে নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বাদল মিয়া নামে এক কৃষক জানায়, এ গ্রামের সব মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। উপজেলা সদরের সাথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের কৃষি পন্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে গ্রামের কৃষি, যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।
স্থানীয়রা জানান, যাতায়ত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে এই গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চাই না। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই গ্রামের মানুষ সব কিছুতেই পার্শ্ববর্তী অন্য গ্রামগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুর রহমান বলেন, উপজেলার মধ্যে কুঠিপাড়া একটি অবহেলিত গ্রাম। স্বাধীনতার এতো বছর পেরিয়ে গেলেও এ গ্রামে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে প্রথমে নদী পার হতে হয়। তারপর ধর্মপুর পাকা সড়ক ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় রোগী পথেই মারা যান।
করতোয়া নদীর ওপর তথা ধর্মপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউস শামস চৌধুরী জিম বলেন, এখানে একটি সেতু হলে খুব সহজে এ দুই গ্রামের মানুষ যাতাযাত করতে পারবে।
এদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল লতিফ বলেন,‘পাশে বড়দহ ব্রিজ থাকার কারণে এখানে ব্রিজ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তার পরও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com