বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২১ অপরাহ্ন

গোবিন্দগঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় দিশেহারা সাধারণ জনগণ

গোবিন্দগঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় দিশেহারা সাধারণ জনগণ

গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোবিন্দগঞ্জে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা । অবৈধ ইট ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ার দূর্গন্ধে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। যা জনমনে অসন্তোষের বিরুপ প্রভাব দেখা দিয়েছে । প্রতিবাদীজনগণ যে কোন সময় ফুসে উঠতে পারে বলে সচেতন মহল আশংঙ্খা করছে ।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সরেজমিনে এলাকাবাসী জানায়, চৈত্র মাসে হাওয়ার সঙ্গে ইট ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ার গন্ধে বাড়ি-ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এলাকা বাসী আরও বলেন, কিছু ইট ভাটা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের নিকটে গড়ে ওঠায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছাত্র ছাত্রীর পড়াশোনায় অমনোযোগী হচ্ছে। বসত বাড়ির উঠানে ও গড়ে উঠেছে অনেক ইটভাটা,আবাদি জমি নষ্ট করে সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত অনেক অবৈধ ইটভাটা। যাদের নেই কোন বৈধ লাইসেন্স। এ বিষয়ে কিছু ইট ভাটা মালিকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, আমরা সরকারের সব পর্যায়ের প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলি।
জানা গেছে, প্রশাসনিক ভাবে ২/১ টা ইটভাটায় লোক দেখানো অভিযানে কিছু টাকা জরিমানা করলেও কোন ইটভাটার মালিক তা তোয়াক্কা না করে প্রশাসন ইটভাটা থেকে চলে যাওয়ার কিছু সময় পরে আবারও তা পুনরায় চালু করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আইন অনুযায়ী নির্গত কালো ধোঁয়ার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের মানষিক অবস্থার কারণে এসব অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠছে বলে সচেতন মহল জোর দাবি করছে।
এছাড়াও ইট ভাটা মালিকের নিকট আবাদি জমির মাটি বিক্রি করায় জমির উরবর্তা শক্তি হারাচ্ছে। সেই সঙ্গে অনেক জমির মাটি বিক্রি করে অবৈধভাবে শ্রেণী পরিবর্তন করায় ফসলি জমি কমে যাচ্ছে যা অদুর ভবিষ্যতে এলাকায় খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুকুর তৈরীর হিড়িক পড়ায় ছোট বড় বর্ষা এবং বন্যায় মরন ফাঁদে পরিনত হচ্ছে বলেও এলাকা বাসী দাবি করছে।
গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর ইউনিয়নের জগন্নাতপুর গ্রামে কৃষি আবাদি জমিতে- এলজিইডি রাস্তা সংলগ্ন এ আর বি ব্রিকস্ ভাটায় অবৈধভাবে ইট পোড়ানোর অভিযোগ বিদ্যমান। মাস্তা গ্রামে কৃষি আবাদি জমিতে-এলজিইডির পাকারাস্তা সংলগ্ন বাড়ির নিকট ইউএসবি ব্রিকস্ ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় জনজীবনে মারাত্নক বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে বলে গুন্জন উঠেছে।
তাছাড়া ইটভাটার মাটি পরিবহনকারী গঢ় ৩ ও ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক গ্রামীন কাঁচা-পাকা রাস্তা দিয়ে চলাচলের জন্য সব রাস্তা ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে যা রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন হচ্ছে বলেও সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। শুধু তাই নয়, মাটি পরিবহনকালে এসব পরিবহনকারী যানবাহন থেকে পাকা রাস্তায় মাটি পড়ায় তা বিভিন্ন পর্যায় কাদার সৃষ্টি হয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রাণহানি সহ ছোট বড় দূর্ঘটনা লেগেই আছে বলেও জানা যায়।
এভাবে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া বৃদ্ধি পেতে থাকলে জমির উঠতি ফসলের ফলন কমে যাবে, গাছের ফলমূল পচে যাবে, মানুষের বিভিন্ন রোগব্যাধী লেগেই থাকবে, মেয়েদের বন্ধ্যাত্বের হার বাড়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা দেখা দেবে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে এদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী সচেতন মহল।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com