বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:১১ অপরাহ্ন

গোবিন্দগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি

গোবিন্দগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি

স্টাফ রিপোর্টারঃ গোবিন্দগঞ্জে আবারও অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে নদী ও ভূ-গর্ভস্থ বালু। সেই সঙ্গে নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি। জেলাজুড়ে উৎসহীন অর্ধশত অবৈধ ইটভাটায় এসব বালু-মাটি কেনার হিড়িক পড়েছে।
এ উপজেলায় গত কয়েকমাসে নদী ও ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলনের একাধিক মামলা হলে এ কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি তা আবারও একযোগে চালু করেছে বালু-মাটি দস্যুরা। অবৈধ বালু উত্তোলনের চ্যালেঞ্জিং কাজে এগিয়ে রয়েছে উপজেলার কাটাবাড়ী, সাপমারা, দরবস্তু, তালুককানুপুর, হরিরামপুর, রাখালবুরুজ ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নগুলো।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলাহার পয়েন্টে বেলাল, বৈরাগীর হাট পয়েন্টে লাজু, বেরাগীর হাট কচুয়া পয়েন্টে মুনছুর, বালুয়ায় মামুন-আতিক-ময়নুল, সাহেবগঞ্জ পয়েন্টে শাহ আলম, চকরহিমাপুর পয়েন্টে আলম, মিশন রোড ও ফুলাহার পয়েন্টে আতাব্বর গংরা কোথাও ভূ-গর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন, আবার কোথাও নদীর চর কাটা কিংবা কোথাও জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে গত কয়েক মাসে এ উপজেলায় ওভারলোড বালু-মাটি নিয়ে গ্রামীণ সড়কে ৬ বা ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক চলতে দেখা যায়নি। এর বিপরীতে সাহেবগঞ্জ এলাকার একটি পয়েন্ট থেকে বালু-মাটি নিয়ে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট রুটটি ছিল সক্রিয়। যদিও সম্প্রতি উপজেলাজুড়ে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কে দিন-রাত একাধিক ড্রাম ট্রাককে বালু ও লালমাটি বহন করতে দেখা যাচ্ছে। ওভারলোডে এসব ড্রাম ট্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আর ধুলা-বালিতে স্বাস্থ্যহানির বিষয়টি এখন উপেক্ষিত।
ড্রাম ট্রাকে বালু-মাটি সরবরাহের অন্যতম কারণ গত নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশজুড়ে বৈধ-অবৈধ ইটভাটায় চালু হয়েছে ইট পোড়ানো। জেলার আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেঁষে গড়ে উঠা একাধিক ইটভাটা নিয়ে প্রতিনিয়ত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার খবর প্রকাশ করলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সবগুলো ইটভাটা মাটি সংগ্রহে নিজস্ব উৎস হারিয়েছে। বিগত সময়ে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ফসলি জমির উপরিভাগের অংশ (পলিমাটি) সংগ্রহ করলেও এবার তা না পারায় দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল খ্যাত লাল মাটিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিটি ইটভাটা ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে লাল মাটি সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি এ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নিচ্ছে নদী বা ভূ-গর্ভস্থ বালু। মহাসড়কে ব্যবহারে বালুর চাহিদা জেলার এ অংশে কম থাকায় এখন তার পুরোটাই যাচ্ছে ইটভাটাগুলোতে।
বরাবরই ইটভাটা মৌসুমের শুরুতে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআই বা জেলা প্রশাসনের নজরদারি দেখা দায়। তবে মৌসুমের মাঝপথে বা শেষের দিকে প্রতিটি উপজেলায় একাধিক ইটভাটায় বিপুল অঙ্কের অর্থ জরিমানা আদায়, বুলডোজার দিয়ে ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া কিংবা ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে দিয়ে ভাটার আগুন নেভাতে দেখা যায়। কোথাও আবার ইটভাটা সরিয়ে নিতে মুচলেকাও নেয়া হয়। এরপরও অবৈধ ভাটাগুলো বছরের পর বছর ধরে চালু রয়েছে। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নামসর্বস্ব আবেদন দিলে নতুন ভাটা স্থাপন করে উৎপাদনে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com