শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০১:০২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ দূর্দশা লাঘবের জন্য চর উন্নয়ন বোর্ড করা দরকার -ডেপুটি স্পীকার প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণঃ ধর্ষক গ্রেফতার হেড ফোন কানেঃ ট্রেনের ধাক্কায় প্রান গেলে যুবকের দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়ে আনন্দিত ভিক্ষুক শুকুর আলী ধাপেরহাটে র‌্যাব ও ভোক্তা অধিকারের যৌথ অভিযান ৪ আলু ব্যাবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধাপেরহাটে ১০ দিনে ৭টি বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুঃসাহসিক চুরি গাইবান্ধায় তিনদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা সমাপ্ত ধর্ষণ মামলার আসামী মুক্তি পেয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি শহরের ডিবি রোড চলাচলের অযোগ্যঃ পথচারীদের দুর্ভোগ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান

গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর বাজারে রমরমা সুদের ব্যবসায় নিঃস্ব হচ্ছে সাধারন মানুষ

গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর বাজারে রমরমা সুদের ব্যবসায় নিঃস্ব হচ্ছে সাধারন মানুষ

গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর বাজারে রমরমা সুদের ব্যবসায় নিঃস্ব হচ্ছে সাধারন মানুষ। দাদন ব্যবসায়ীদের চক্র বৃদ্ধি সুদের ফাঁদে নির্যাতনের শ্বিকার ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের কোচাশহর বাজারে আরজি শাহাপুর মন্ডল পাড়ার তারা মন্ডল ও আমিরুল সহ কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ীকে টাকার অংক বুঝে প্রতিদিন হাজার-হাজার টাকা সুদ দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। সপ্তাহ শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পায় সুদের টাকা। টাকা দিতে পরে না দিতে পারলে মাঠের জমি, গরু এমনকি বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে টাকা দিতে হয় সুদ ব্যবসায়ীদের। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এরই মধ্যে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন ও বাড়ীঘর বিক্রি করে নিঃশ্ব হয়েছেন বলে জানা গেছে। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক পরিবার। সুদের ব্যবসা কয়েক বছর ধরে চলছে এ বাজারের আশপাশের গ্রামে গ্রামে। সুদের টাকা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। ভুক্তভোগী কোচাশহর ইউনিয়নের শক্তিপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুর রউফ জানান, স্থানীয় শাহাপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে দাদন ব্যবসায়ী তারা মন্ডলের কাছে ২০১৪ইং সালে ১ লাখ টাকা লাভের উপর নিয়ে দৈনিক চক্র বৃদ্ধি সুদ দিয়ে এ পর্যন্ত ১৬লাখ টাকা পরিশোধ করছেন। এ সুদের ঘানি টানতে গিয়ে এর মধ্যে দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন থেকে ৩ লাখ টাকা ও ইনডেক্স কো-অপোরেটিভ থেকে দেড় লাখ টাকা ও ৫৭ শতাংশ বসতঘরসহ জমি ১০লাখ টাকায় বিক্রি করে ও ২হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্যান দাদন ব্যবসায়ীকে দিয়েছেন। তার পরেও সে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আটককৃত চেক ডিজনার করে উকিল নোটিশ করে মামলা দিয়ে হয়রানী করার পায়তারা করছেন। এখন তিনি বাড়ী ঘর বিক্রি করে নিঃশ্ব হয়ে দাদন ব্যবসায়ীর বিভিন্ন হুমকি ধামকি ও নির্যাতন সইতে না পেরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার চাইছেন। তার মত মোকন্দপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে কম্পিউটার ব্যবসায়ী রবিন জানান, সে ১লাখ টাকা লাভের নিয়ে কম্পিউটার দোকান, বাড়ীর জমি, ফসল বিক্রি করে দাদন ব্যবসায়ী তারা মন্ডলকে ১৫লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তার মত শোলাগাড়ী গ্রামের নিয়ামতের ছেলে হাফিজার ও শক্তিপুর গ্রামের জাহিদুল সুদের ঘানি টানতে টানতে নিঃশ্ব হয়েছেন। এদিকে এলাকাবাসী জানান, দাদন ব্যবসায়ী আমিরুলের কাছে দাদনের টাকা নিয়ে সুদ দিতে দিতে দেনা গ্রস্থ হয়ে শক্তিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী বিনয়শীল স্ত্রী,সন্তান নিয়ে এলাকাছাড়া হয়েছেন। এছাড়াও বিপদে পড়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে কারেন্ট সুদে টাকা নিয়ে নিঃশ্ব সম্ভ্রান্ত পরিবার গুলো এ পথে বসেছে। সন্মানের ভয়ে কাউকে বলতে পারছে না এসব দুঃখের কথা। এলাকাবাসী জানান, একেক জন দাদন ব্যবসায়ীর কাছে অন্তত পক্ষে ১ থেকে দেড়শত ব্যাংকের চেকবইয়ের পাতা, ফাঁকা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেওয়া আছে। যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। এমনকি সুদ খোররা অনেকের জমি বিক্রি করে নিয়েও সুদের টাকা পরিশোধ হয়নি। বর্তমানে অনেক পরিবার এ নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করে আসছে। এ নিয়ে দাদন ব্যবসায়ী তারা মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। এদিকে দাদন ব্যবসায়ী আমিরুলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রামকৃষ্ণ বর্মন সাংবাদিকদের কোচাশহর বাজারে দাদন ব্যবসায়ীদের চক্রবৃদ্ধি সুদে নিঃশ্ব হওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভূক্তভোগী পরিবার গুলো সর্বস্বান্ত হওয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com