মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:০৪ অপরাহ্ন

গাইবান্ধা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বালাম বই ছিঁড়ে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

গাইবান্ধা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বালাম বই ছিঁড়ে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধা জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বালাম বইয়ের পাতা ছিঁড়ে দলিল জালিয়াতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি গাইবান্ধা জেলা আমলি আদালতে জেলা রেজিস্ট্রার, রেকর্ড কিপারসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এদিকে এরকম বেশ কয়েকটি দূর্নীতির পর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহায়ক ও রেকর্ড কিপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে অভিযুক্তরা জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে মুচলেকা দিয়ে সাধারণ ক্ষমা পেয়ে যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১ লা এপ্রিল ওমর আলী শেখ নামে এক ব্যক্তি দলিল নাম্বার ১১৮৪২ মূলে দাগ নাম্বার ৬০৪ অনুযায়ী ছকিনা বিবির কাছে ৪৫ শতক জমি বিক্রি করে । ছকিনার মৃত্যুর পর উক্ত জমির মালিকানা পায় তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। পরবর্তীতে উক্ত জমির কিছু অংশে ফসল উৎপাদন ও বাকি অংশে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে তারা । এরপর জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ছকিনার তিন ছেলে ফুল মিয়া, সাজু মিয়া ও ছাকি মিয়া ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের জোতগৌড় সরকার মৌজায় জালিয়াতির মাধ্যমে মোছাঃ রেণী বেগমের নামে বি আর এস খতিয়ান নাম্বার ৪২ ও ২৮ এবং ৬১৩ ও ৬১২ দাগে মোট ৪৫ শতক জমি রেকর্ড করে নেয়।
বিষয়টি জানতে পেরে জমির প্রকৃত মালিকেররা জেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জাবেদা উত্তোলন করে একটি বিজ্ঞাপনী মামলা দায়ের করলে, উক্ত মামলার শুনানিতে আসামি আনোয়ারুল ইসলাম জানান উক্ত দলিলের কোন ভলিউম নাই । বিষয়টি জানার পর বাদীপক্ষ জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর একটি দরখাস্ত দাখিল করলে তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি ইনডেক্সের জাবেদা দেওয়া হয়। উক্ত জাবেদা অনুযায়ী পরবর্তীতে দেখা যায় ভলিউম বইয়ের ২১৬ থেকে ২১৮ নং পৃষ্ঠা বালাম বইয়ে নাই ফলে উপযুক্ত প্রমাণ থাকার পরেও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অসাধু অফিস সহায়ক আশরাফ, রেকর্ড কিপার বীণা রানিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনৈতিক কাজে জমিটি হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তোভোগী বাদীপক্ষ ।
মামলার অন্যতম বাদী সাজু মিয়া বলেন, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহায়ক আশরাফুল, রেকর্ড কিপার বিণা রাণীসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরস্পর জোগসাজশে বালাম বই ছিঁড়ে জমির দলিল জালিয়াতি করেছে ।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন ভুক্তোভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সাব রেজিস্ট্রি অফিস এখন দূর্নীতির আখরায় পরিণত হয়েছে । টাকার বিনিময়ে চলছে প্রায় সব সব রকম সেবা । অন্যদিকে বালাম বই সংরক্ষণাগার মহাফেজ খানায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অবাধ প্রবেশে নষ্ট হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার গোপনীয়তা । অনুসন্ধানে জানা যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কয়েকজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও রেকর্ড কিপার পরস্পর জোগসাজশে বালাম বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলাসহ দলিল জালিয়াতি করে আসছে ।
সম্প্রতি বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়ার ঘটনায় সদর সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জিহাদ সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করে সদর সাব রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল ইসলাম । উক্ত ঘটনাটার অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জিহাদ সরকার গত ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর গাইবান্ধা জেলা মহাফেজ খানা থেকে সুন্দরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৬১ সালের ১০৬৩ দলিল নাম্বারের ২৭ নাম্বার বালামের ২২৪ থেকে ২২৫ পৃষ্ঠা অফিস সহায়ক আশরাফের মাধ্যমে নকলনবিশ ফৌজিয়া আক্তারের নিকট সরবরাহ করেন পরে ঐ বালামের পৃষ্ঠা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এঘটনায় অভিযুক্তরা এখনো বহাল তবিয়তে অফিস করছেন বলে জানা গেছে ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা সদর সাব রেজিস্ট্রার বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেই , জবাবে তারা জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট দোষ স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর হবে না মর্মে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিতে রাজি হয় । এতো বড় অপরাধের এমন লঘু দন্ড কেন দেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন কয়েকশত সেবা প্রার্থী আসে, অফিস সহায়করাই বালাম বইয়ের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে নকল নবীশদের সরবরাহ করে। তাই তাদের যদি একবারে বরখাস্ত করি জনবলের অভাবে সেবা কার্যক্রম ব্যহত হবে ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com