মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

গাইবান্ধা জেলা পরিষদে ৬২ লাখ টাকার অনিয়ম প্রমাণিতঃ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

গাইবান্ধা জেলা পরিষদে ৬২ লাখ টাকার অনিয়ম প্রমাণিতঃ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধা জেলা পরিষদে ৬২ লাখ ২৬ হাজার ৬৭০ টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অভিযুক্তদের তথ্য চেয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার পত্র দিলেও তাদের তথ্য প্রেরণ করা হয়নি।
এর আগে জেলা পরিষদের কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন দফতরে জেলা পরিষদের ৩০ দফা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা দীর্ঘ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণাদি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিয়ে ৩০ দফার মধ্যে নয় দফা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ প্রমাণিত অভিযোগগুলোর সাথে জড়িত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/সচিব, প্রকৌশলী/উপসহকারী প্রকৌশলী, কর্মকর্তা/কর্মচারী ও সদস্যদের নাম-বর্তমান কর্মস্থলসহ যাবতীয় তথ্য চেয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রথম দফা চিঠি দেন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখার দায়িত্বরত উপ সচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে দ্বিতীয় দফায় আবারও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পত্র দেন উপ সচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী।
সবশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর উপসচিব তানভীর আজম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে বলা হয়, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত ৩১টি অভিযোগের মধ্যে ৫, ৬, ৮, ৯, ১০, ১৫, ১৮, ২৭ ও ৩০ ক্রমিকের নয়টি অভিযোগ রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়।
এর আগে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ৩০ দফা সম্বলিত অভিযোগ করে পরিষদের কর্মচারী সমিতি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের নয়টি অভিযোগের সত্যতা পায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত ওই তদন্ত কমিটি। অভিযোগের ৫ ও ৬ নম্বর দফায় অ্যাকাউন্ট পে চেকের বদলে বেয়ারার চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয় এবং এই অভিযোগের সাথে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
৮ ও ৯ নং অভিযোগে জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক শামীম মিয়া, জেলা পরিষদের সদস্য ডিজু বকশির নামে বেয়ারার চেকের মাধ্যমে ৩০ লাখ ৮২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। কোনো ধরনের আর্থিক বিধি বিধান প্রতিপালন না করে এই অর্থ ব্যয় করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
১০ নং অভিযোগে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভুতভাবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬শ ৭০ টাকা ভ্রমণ ভাতা উত্তোলনের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। ১৫ নং অভিযোগে বিধিবহির্ভুতভাবে রাজস্ব বাজেটের চিকিৎসা সহায়তা খাত থেকে চেয়ারম্যান আতাউরের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে তদন্তে।
এছাড়া পনেরোটি প্রকল্পের মধ্যে দশ প্রকল্পে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পের অর্থ ছাড় করে, অন্যদিকে জেলা পরিষদের ফান্ড থেকে চেয়ারম্যান, তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা ১০ লাখ টাকা বেয়ারার চেকে উত্তোলন করে যা বিধিবহির্ভুত বলে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি। সব শেষ অভিযোগে সাঘাটা উপজেলার মীরপুর লঞ্চঘাট ইজারার ক্ষেত্রে সর্ব্বোচ্চ দরদাতাকে ঘাট ইজারা না দেয়ার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মোছাঃ রোখছানা বেগম ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ আব্দুর রউফ তালুকদার জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পত্র অনুযায়ী তিনি কাজ শুরু করেছেন। অভিযুক্তরাকে কোথায় কর্মরত আছেন সেই তথ্যগুলো পেলেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
অভিযোগের ব্যাপারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে তিনি কোনো পত্র পাননি। তবে জানতে পেরেছেন তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। প্রাথমিকভাবে বিভিন্নকর্মকান্ডে নিয়ম-বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যার সাথে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com