বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৪০ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি গতকাল শনিবার পর্যন্ত বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। করতোয়া নদী তীরবর্তী এলাকা পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় শুকনো খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, জ্বালানি, পয়ঃনিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যা কবলিত এলাকার পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো একই কারণে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ৬১টি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৬৮ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ১ লাখ ৩১ হাজার ৩২০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গোখাদ্য দুই লাখ টাকার ও ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুন্দরগঞ্জে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। টানা অবিরাম বর্ষন এবং উজানের ঢলে উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শান্তিরাম, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দেয়। পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার্তদের দুর্ভোগ কমেনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফা বন্যায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরের কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবারের ৪২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
হরিপুর চরের ওয়াহেদ আলী জানান, তার ঘরের ভিতরে এখনও হাটু পানি। স্ত্রী, পুত্র, পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি জানান, চরাঞ্চলের পরিবারগুলো বিশেষ করে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বানভাসি মানুষের গৃহপালিত পশুর জন্য খড়ের আটি বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সাঘাটা প্রতিনিধিঃ সাঘাটা ও ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় পানি কমলেও বানভাসিদের কমেনি এখনো দুর্ভোগ । গতকাল শনিবার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় পানি গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ সেন্টিমিটার হ্রাসপেয়ে ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি সামান্য কমলেও গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬৫টি চর এবং নদীতীরবর্তী ২৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ফুলছড়ি ও সাঘাটায় বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও বেশীরভাগ মানুষ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উচু রাস্তার ধারে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া বানভাসী মানুষেরা চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। দেখা দিয়েছে গো -খাদ্যসহ বিশুদ্ধ পানীয়জলের তীব্র সংকট।
এছাড়াও গ্রামীণ জনপদের রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকায় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পানিবন্দি বন্যার্ত মানুষের মাঝে দেখা দিতে শুরু করেছে চর্মরোগ সহ নানা ধরণের পানিবাহিত রোগ। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বন্যার্ত মানুষের, দুর্দশা আরও বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com