মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
দামোদরপুরে সিএনজি মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত গাইবান্ধায় সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ২ সুন্দরগঞ্জে ঝড়ের উষ্ণ বাতাসে পুড়ে গেছে ৩৫ হেক্টর জমির ফসল গাইবান্ধা জেলা শহরে দোকানসহ মার্কেট-শপিংমল বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভঃ ওসির গ্রেফতার দাবিঃ এসপি অফিস ঘেরাও সুন্দরগঞ্জে বাহিরগোলা জামে মসজিদে এসি লাগানোর উদ্বোধন সাংবাদিক সুমনকে নির্যাতনের ৩ দিনেও আসামী গ্রেফতার হয়নি জুমারবাড়ী রোমা সিনেমা হলের মালিক বুলুকে হত্যা গাইবান্ধায় জেলা আ’লীগ ও পুলিশ সুপারের প্রেস বিফ্রিং বাড়িতে আটক রেখে ব্যবসায়িকে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন সাঘাটায় জুমারবাড়ী-সোনাতলা ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণঃ বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা

গাইবান্ধায় দ্বিতীয় দফায় বন্যাঃ নতুন করে ৩০টি গ্রাম প্লাবিতঃ শহর রক্ষা বাধ হুমকির মুখে

গাইবান্ধায় দ্বিতীয় দফায় বন্যাঃ নতুন করে ৩০টি গ্রাম প্লাবিতঃ শহর রক্ষা বাধ হুমকির মুখে

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত চারদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া সবকটি নদীর পানি দ্রত আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ২৭ সে.মি. এবং তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘাঘট, কাটাখালি, বাঙালী ও করোতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি দ্বিতীয় দফায় আবার অবনতি হয়েছে। সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বসতবাড়ি আবারও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে এবং ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ছেড়ে গবাদি পশু নিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। আকস্মিক বন্যার তীব্র স্রোতে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধসহ ফুলছড়ি ও সাঘাটা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রমের ফলে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নিুাঞ্চল ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী, ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জালাল বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যা আতংক বেড়েছে। চরের মানুষ সবসময় নৌ ডাকাতের আতংকে ভুগছে। তিনি পুলিশের নৌ টহল জোরদারের দাবি জানান।
সাঘাটা প্রতিনিধিঃ বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সাঘাটায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতি হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে সাঘাটা উপজেলায় ২৬৫ চরের প্রায় ৫০ হাজার পানিবন্দি মানুষ চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ ছাড়াও উচুবাঁধ, রাস্তার ধারে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া বানভাসী মানুষ ফিরতে পারছে না তাদের নিজ বসত বাড়িতে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহের বন্যার ধবল কাটিয়ে উঠার আগে আবার নতুন করে নদ-নদীতে পানি বাড়ায়। সাঘাটা উপজেলায় বন্যা অতঙ্ক দেখা দিয়েছে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত নিম্নাঞ্চল ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতাও। এতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঙ্গালী ও যমুনা নদীতে।
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৮ হাজার ৯৩০ পরিবারের ৩৫ হাজার ৭২০ জন মানুষ।
গত ৪ দিন থেকে একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির ঢলে উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানিতে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় বেলকা, হরিপুর, কাপাশিয়া, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, শান্তিরাম ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ৮ হাজার ৯৩০ পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ৩৫ হাজার ৭২০ জন মানুষ। বাড়ি-ঘরের ভিতর পানি থাকায় রান্নার অভাবে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন তারা। সরকারি ভাবে পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পরিবার পরিজন, গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বেরি বাঁধ ও উঁচু স্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জ্বালানী না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৩০ পরিবারের ৩৫ হাজার ৭২০ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে তারাপুর ইউনিয়নে ৫০০, বেলকায় এক হাজার ৮০০,হরিপুরে ৩ হাজার ৮০,কঞ্চিবাড়ীতে ২৫০, শ্রীপুরে ৩০০, চন্ডিপুরে ২৫০ ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত পানিবন্দীর সংখ্যা আরো বেশী হবে বলে স্থানীয়রা জানান। দিন দিন পানি বন্দীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান সদ্য করোনামুক্ত হওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com