সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় টানা ৭ দিন সূর্যের দেখা নেইঃ শীতে বিপযস্ত জনজীবনঃ বৃষ্টিরমত কুয়াশা ঝড়ছে

গাইবান্ধায় টানা ৭ দিন সূর্যের দেখা নেইঃ শীতে বিপযস্ত জনজীবনঃ বৃষ্টিরমত কুয়াশা ঝড়ছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধায় টানা সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। রাতে বৃষ্টিরমত কুয়াশা ঝড়ছে। বাস-ট্রাকগুলো দিনের বেলাও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। সূর্যের দেখা না যাওয়ায় ঠা-া বেশি অনুভূত হচ্ছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে গাইবান্ধা জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই জেলায় এবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ২৪ ঘণ্টা আগেও গাইবান্ধার তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগ নিয়ে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বেশি আসছেন। তাদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
এদিকে হিমেল হাওয়া ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়ছেন খামারিসহ প্রান্তিক কৃষকরা। গবাদিপশুগুলোকে পুরনো কাঁথা, কম্বল, বস্তা, পুরনো জামাসহ অন্যান্য কিছু দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সব থেকে বেশি সমস্যায় রয়েছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের গবাদিপশুগুলো।
গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার নূরুল ইসলাম (৬৫) বলেন, কয়েকদিনের শীতে অবস্থা কাহিল। এরকম ঠা-া আর শীত হলে আমার মতো বয়স্ক মানুষের বেশি ভুগতে হবে। এমনিতেই নানা অসুখ-বিসুখ লেগেই আছে।
রিকশাচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, শীতে হাত-পা তব্দা লেগে আসে। রিকশার হ্যান্ডেল ধরে রাখা যায় না। তাই কষ্ট হলেও কিছুক্ষণ আগুন পোহানোর পর আবারও রিকশা নিয়ে বের হতে হয়।
বিধবা ফেলানী বেগম (৫৫) বলেন, শীতের কারণে কোনো কাজে যেতে পারছি না। বাড়িতে বসে থেকে তো আর দিন চলবে না। সরকারি কম্বল আসলেও চেয়ারম্যান-মেম্বাররা পছন্দের লোকজনদের দেয়, আমরা পাই না।
কামারজানি ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আইনুল হক বলেন, সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঠা-ায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। ঠা-ার কারণে জমিতে কাজ করতে যেতেও পারছি না।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দিন দিন গাইবান্ধা জেলার তাপমাত্রা কমে আসছে। শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত আরও বাড়তে পারে। তবে আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি থেকে মেঘের আনাগোনা শুরু হতে পারে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (নেজারত শাখা) জুয়েল মিয়া বলেন, শীতার্ত মানুষের জন্য জেলার সাত উপজেলায় ৪৫ হাজার পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কম্বলগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ শুরু হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com