বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

গাইবান্ধায় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৫ শতাংশ জমিতে বরজ দিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে পান চাষ করছেন মোঃ ছালজার রহমান (৪২)। বাবা, মা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে ছয় সদস্যের পরিবার তাঁর। পান চাষের ওপর নির্ভর করে চলে সংসারের খরচ। তবে দুই বছরে সার, কীটনাশকসহ বরজ তৈরির উপকরণের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। এতে আগের মতো পান চাষে লাভ থাকে না। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে সংসার খরচ চালানো কঠিন হয়ে গেছে তাঁর জন্য।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল গ্রামের বাসিন্দা ছালজার রহমান। তিনি বলছিলেন, এমনিতে পান চাষে কঠিন সময় যাচ্ছে। এর ওপর কয়েক দফায় বিএনপির হরতাল-অবরোধে ঠিকমতো হাটবাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। সংসারে দেখা দিয়েছে অভাব। ধারদেনা আর টেনেটুনে চলতে হচ্ছে।
একই গ্রামের পানচাষি ছায়েদ খন্দকার (৪৮)। ২০ শতাংশ জমিতে ১৫ বছর ধরে পান চাষ করছেন তিনি। তাঁর পরিবারে পাঁচজন সদস্য। ছায়েদ খন্দকার বলেন, দুই বছর আগে ইউরিয়া ২২ টাকা কেজি ছিল, তা বেড়ে হয়েছে ২৭ টাকা। ২২ টাকার টিএসপি ২৭ এবং এমওপি ১৫ থেকে বেড়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে এর চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় কৃষকের।
সারের মতো খৈল, কীটনাশক, বাঁশসহ অনেক কিছু প্রয়োজন হয় বরজে। এখন সবকিছুরই দাম বেশি। ফলে কৃষক বিপদে আছেন। ছালজার ও ছায়েদের মতো আরও অনেক চাষি একই কথা জানিয়েছেন। পান চাষের আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে তাদের জন্য। এ পরিস্থিতিতে পান চাষও সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। অন্যথায় ভিন্ন পেশায় যেতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক পানের বরজ রয়েছে। পান চাষের জন্য অনেক গ্রামের নাম থাকলেও সেগুলোকে বলা হতো পানাতে পাড়া। এখনও সে নাম থাকলেও কমেছে পান চাষ। যারা টিকে আছেন তারাও নানা প্রতিকূলতায় মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com