বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

খোর্দ্দকোমরপুরে চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্দ্বে ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ বন্ধ

খোর্দ্দকোমরপুরে চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্দ্বে ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের দ্বন্দ্বে বন্ধ রাখা রয়েছে ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ। এ কারণে নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই শীতে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে ৭ শতাধিক সরকারি কম্বল বিতরণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান আর মেম্বারদের সমন্বয় না থাকায় সম্ভব হয়নি। একইভাবে এখানকার দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়েছে দুম্বার মাংস থেকে। অন্যান্য ইউনিয়নে দুম্বার মাংস পাঠানো হলেও খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে দেওয়া হয়নি। এসব নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে ১৩৮ জন শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫৫ জন আর নারী ৮৩ জন। চেয়ারম্যান আর মেম্বারদের দ্বন্দ্বে চলতি মৌসুমে এই শ্রমিকরা কোনো কাজ করতে পারেনি। ফলে শ্রমিকদের ৪০ দিনের মজুরির ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা ফেরত যাচ্ছে। হতদরিদ্র শ্রমিকদের এই অর্থ থেকে বঞ্চিক করলো জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্ব।
ইউনিয়ন পরিষদের অসহযোগিতার কারণে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রতিস্থাপন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায়। এ কারণে বয়স্ক ভাতার জন্য ৯৩ জন, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ৩৯ জন এবং প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য ১১ জন সুবিধাভোগী বঞ্চিত। অথচ এই ১৪৩ জন দরিদ্র মানুষ প্রতি মাসে ভাতা পেতেন ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৫ টাকা। কাবিখা প্রকল্পে চাল বরাদ্দ ১ মেট্রিক টন ৬৩০ কেজি, গম বরাদ্দ ১ মেটিক ট্রন ৬৩০ কেজি। টিআর প্রকল্পে বরাদ্দ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৪ টাকা। কিন্তু ওই দ্বন্দ্বের কারণে এসব প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ এই বরাদ্দে ৭ থেকে ৮টি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন হতো।
এদিকে নতুনভাবে ওই ইউনিয়নের কোনো নারীকে মাতৃত্ব ভাতার আওতায় আনা যাচ্ছে না। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সভার রেজুলেশন না থাকায় মাতৃত্ব ভাতার জন্য কাউকে নির্বাচন করা যাচ্ছে না। এতে গত চার মাসে ২৪ জন নারী মাতৃত্ব ভাতা থেকে বঞ্চিত হলেন। তারা চার মাসে ভাতা পেতেন ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা।
সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সমন্বয়ের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম। কিন্তু তারা আপোস-রফার পক্ষে না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই ইউনিয়নের সমস্ত উন্নয়ন কাজ বন্ধ আছে। এতে অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে।
খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাহাবুব হাসান বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বররা পরিষদে না আসায় সভা হচ্ছে না। তাদের কারণে ব্যহত হচ্ছে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন কার্যক্রম। কারণ এসব সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন তারা প্রতিস্বাক্ষর দিতে চান না। এতে সেবা প্রত্যাশী মানুষ ক্ষিপ্ত।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com