সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

কারাগারে অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে ফেলায় নির্যাতন

কারাগারে অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে ফেলায় নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধা জেলা কারাগারের ভেতরে অনৈতিক কর্মকা- দেখে ফেলায় এক নারী কয়েদিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার পাশাপাশি মারধর করেছেন প্রধান কারারক্ষী আশরাফুল ইসলাম বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে, গত মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ করিমন নেছা বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গত পাঁচ বছর ধরে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে কয়েদি (মাদক মামলার আসামি) হিসাবে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ওই কয়েদির মা লিখিত অভিযোগে বলেন, জেলা কারাগারে কর্মরত প্রধান কারারক্ষী মোঃ আশরাফুল ইসলাম এবং নারী কয়েদি (রাইটার) মোছাঃ মেঘলা খাতুনের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে ফেলে আমার মেয়ে। এ কারণে তার ওপর প্রধান কারারক্ষী আশরাফুল ও রাইটার মেঘলা ক্ষিপ্ত হন। দুই জনের অনৈতিক সম্পর্কের কথা কাউকে বললে আমার মেয়েকে মেরে ফেলে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তারা।
অভিযোগে আরও জানা যায়, এসব ঘটনা জেল সুপারের কাছে বিচার দেওয়ার কথা বললে আমার মেয়েকে প্রকাশ্যে আশরাফুল বলেন, জেলার সাহেব আমার লোক। তাকে আমি এখানে বদলি করে এনেছি। জেলার তার কোনো বিচার করতে পারবে না বলেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেন আশরাফুল।
ভুক্তভোগীর মা করিমননেছা লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, চলতি বছর ২০ মার্চ দুপুরে আশরাফুলের নেতৃত্বে নারী কয়েদি মেঘলা খাতুন, রেহেনা, আলেফা এবং কারারক্ষী তহমিনা, শাবানা পরিকল্পিতভাবে কারাগারের নারী ইউনিটের ভেতরের বারান্দায় লাঠি দিয়ে আমার মেয়ের ওপর হামলা চালান। তারা আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করেন। এক পর্যায়ে আশরাফুল, সিআইডি আনিছ এবং হাবিলদার মোস্তফা কারাগারের মহিলা ইউনিটের ভেতর প্রবেশ করে আমার মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে মহিলা ইউনিটের বারান্দা থেকে সেলের ভেতর নিয়ে যায়। আমার মেয়ের দুই হাত-পা হ্যান্ডক্যাপ ও রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে দুই উরু ও পায়ের পাতায় মারধর করেন। এ ঘটনা বাইরে প্রকাশ করলে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধার জেল সুপার মোঃ জাবেদ মেহেদী বলেন, অভিযুক্তকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক নিজে এসে তদন্ত করে গেছেন। আরও অধিক তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলা করা হবে। ওই নারী কয়েদি মাদক মামলার আসামি। তার আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও জেল সুপার জানান।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com