সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

ইউপি নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জে নৌকা চান দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তরাও

ইউপি নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জে নৌকা চান দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তরাও

স্টাফ রিপোর্টারঃ ইউপি নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে তারা নেমেছেন নির্বাচনী মাঠেও।
জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে উপজেলার জিআর প্রকল্পের ৫ হাজার ৮২৩ মেট্রিকটন চাল আত্নসাতের অভিযোগ ওঠে ১৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুরের সহকারী পরিচালক মোঃ হোসাইন শরীফ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই ও কামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহেদ হোসেন চৌধুরী, কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম (রফিক), শাখাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহাজুল ইসলাম, রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকার, সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদ বুলবুল, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. র. ম. শরিফুল ইসলাম জজ, তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক, নাকাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আকতারা বেগম, রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহদাত হোসেন, ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মোল্লা, গুমানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ মোস্তফা জগলুল রশিদ রিপন, কামারদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রতন, কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মন্ডল, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান, শালমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির হোসেন শামীম ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর গোলাপী বেগম।
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান আর র ম শরিফুল ইসলাম জজ বেশ কয়েকজন উপজেলা আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তারা সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য দুইজন প্রার্থী (নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক) জানান, আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাচনে কোন বাধা নেই। এ কারনেই তারা নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপি নির্বাচন রির্টানিং অফিসারগণ জানান, আগামী ২৯ নভেম্বর মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাকাই ইউনিয়নের ভোটার আরশাদ আলী বলেন অনেক প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আছে। তারা নৌকা প্রতিকে ভোট করবেন বলে পোচারোনা চালিয়ে আমাদের কাছে ভোট চাইছেন তাই আমার দিধা দন্তে রয়েছি। তালুক কানুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক বলেন আমরা দুদকের মামলায় সাজা প্রাপ্ত হই নাই দোশি সাব্যস্ত হই নাই এ কারনে আমি মনে করি নির্বাচনে কোন বাধা নেই ।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, নির্বাচনের তফসিল অনুয়ায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর যাচাই বাচাই করা হবে। সেই সময় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সামছুল আলম হিরু বলেন মামলার দুইটি তদন্ত রিপোর্টে নির্দোশ প্রমানিত হয়েছে। একটি এখনো তদন্তধীন রয়েছে । যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা হাই কোট থেকে জামিনে রয়েছে, আর আমরা জেলা কমিটি থেকে কাকে নৌকা দেওয়া যায় তার নাম সিলেকশন করে তালিকা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিতে প্রেরন করা হয়েছে।
রংপুর দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হয়েছে মামলাটি এখন তদন্তধীন রয়েছে এবং ১৮০ কার্য দিবসে এই মামলার তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা কোর্টে চার্জ সিট দাখিল করব । যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের এখনো বিচার কাজ শুরু হয়নি তারা দোশী সাব্যস্ত হয়নি । তাই তারা নির্বাচন করতে পারবে কিনা সেটা নির্বাচন কমিশনই বলতে পারবে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com