মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ নেতা ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী সহিংসতায় জড়িত থাকা পুলিশের অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গাইবান্ধা শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খান মোঃ সাইদ হোসেন জসিম ও তার সহোদর তিন ভাইকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দেয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করেছে পিবিআই।
তদন্ত প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি গাইবান্ধা পৌর নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে শহরের কুঠিপাড়া ও সরকারপাড়ায় সহিংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরদিন গাইবান্ধা সদর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। শহরের সরকারপাড়ার ঘটনায় মামলার তদন্ত করেন সদর থানার এসআই (বর্তমানে সাদুল্যাপুর থানায় কর্মরত) সাহাদত হোসেন ও কুঠিপাড়ার দুটি মামলার তদন্ত করেন এসআই নয়ন কুমার সাহা। এজাহারে নাম না থাকলেও পরবর্তীতে সামাজিকভাবে হেয় ও ব্যবসায়ির সুনাম ক্ষুণœ করতে খান মোঃ সাইদ হোসেন জসিম, তার সহোদর ভাই মোঃ সোহেল খান, মোঃ রুবেল খান ও শাহীন খানকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ও আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় খান মোঃ সাইদ হোসেন জসিম গত ১৬মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে গাইবান্ধা সদর থানার এসআই নয়ন কুমার সাহা ও এসআই সাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স থেকে ঘটনা তদন্তের জন্য গাইবান্ধা পিবিআইকে নির্দেশ দেয়া হয়। পিবিআই’র পুলিশ সুপার এ.আর.এম আলিফ তদন্ত শেষে সম্প্রতি পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় খান মোঃ সাইদ হোসেন জসিম ও তার সহোদর তিন ভাই সহিংস ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও একই তারিখ, একই সময় এবং একই ঘটনাস্থলের উপর ভিত্তি করে কুঠিপাড়ার ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় (গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা নং ২৪) আসামি করে তাদের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্ববিরোধী বিষয় উপস্থাপন করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই পুলিশ সুপার আলিফ আরও উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই নয়ন কুমার সাহা অপেশাদার আচরণ ও দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বর্তমানে সাদুল্যাপুর থানায় কর্মরত অভিযুক্ত এসআই সাহাদত হোসেন ও গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত নয়ন কুমার সাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে খান মোঃ সাইদ হোসেন জসিম বলেন, পুলিশ কার প্রভাবে প্ররোচিত হয়ে আমাদের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশিট কেন দিলেন তার বিচার চাই। আমি এসআই সাহাদত হোসেন ও এসআই নয়ন কুমার সাহা এবং তৎকালিন সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রউফসহ সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com