মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

অযত্নে অবহেলায় ধ্বংসের পথে নলডাঙ্গা ডাকবাংলো

অযত্নে অবহেলায় ধ্বংসের পথে নলডাঙ্গা ডাকবাংলো

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ ডাকবাংলো ভবনটি সংস্কার ও মেরামতের অভাবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই। অযত্বে আর অবহেলায় ডাকবাংলোটি আজ ধ্বংস হতে চলছে।
স্থানীয়রা জানান, এ ডাকবাংলোটিতে এক সময় রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রাত্রিযাপন ও দীর্ঘসময় অবস্থান করেছেন। এর মধ্যে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত নলডাঙ্গায় এক সফরে এসে ৭২ ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন। এছাড়া মরহুম রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস ছাত্তার এবং এরশাদ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর নলডাঙ্গায় সফরে এসে এই ডাকবাংলোয় রাতযাপন করেন। বিভিন্ন সময়ে এ রকম রাষ্ট্রের অনেক কর্ণধার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ডাকবাংলোটিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে রাত্রিযাপন করেছেন। আজ সেই ডাকবাংলোটির বেহাল চিত্র সবাইকে হতাশ করেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ডাকবাংলোটির কোন রকম সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় ভবনটির ভেতর বাইরে বিভিন্ন স্থানে বিশাল আকৃতির ফাটল ধরে দেয়ালের চারিদিকে কালো স্যাঁতস্যেঁতে হয়ে বালি সিমেন্ট খসে পড়ছে। মেঝেরও অনুরূপ অবস্থা। উপরের ছাউনির টিনগুলো মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ভেতরে পানি জমে থাকে। দরজা জানালাগুলো ঘুণে ধরে ভেঙে ভেঙে খুলে পড়ছে। এমতাবস্থায় এ ভবনটিতে রাতযাপন করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ডাকবাংলোর ভেতরে বসা ও শোয়ার মতো খাট, চেয়ার, টেবিল ও বিছানাপত্র নেই বললেই চলে। যে দুই একটা চেয়ার, টেবিল ও খাট রয়েছে সেগুলোরও নড়বড়ে অবস্থা।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফুল মিয়া বলেন, আমার জানা মতে, ডাকবাংলোগুলো দেখাশুনা করে জেলা পরিষদ। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের তেমন কিছু করার নেই। তবে ভগ্নদশা ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ দিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা আর নেক দৃষ্টি না থাকায় সরকারের লাভজনক এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
সার্বিক অবস্থা নিয়ে কেয়ারটেকার আব্দুল বাকির সাথে কথা বললে তিনি জানান, ডাকবাংলোটিতে থাকার মতো পরিবেশ নেই। আর এখানে থাকাটা কারো জন্য নিরাপদও নয় এ অবস্থার কথা জেনে এখানে কেউই রাত যাপনের জন্য আসেন না।
এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক বলেন, এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ হলেই ডাকবাংলোগুলো মেরামত করা হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com