মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

ব্রহ্মপুত্র তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপরে: গাইবান্ধার ৪ উপজেলা বন্যা কবলিত ৪৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ব্রহ্মপুত্র তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপরে: গাইবান্ধার ৪ উপজেলা বন্যা কবলিত ৪৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ১১৩টি গ্রামের নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফলে ওইসব এলাকার বিভিন্ন ফসলী জমি ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। ফলে বন্যা কবলিত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি তোড়ে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া এলাকায় গতকাল রোববার সকালে বাঁধের ১শ ফিট অংশ ধ্বসে গেছে। ফলে আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৭ শতাধিক বাড়িঘর ও ওইসব এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ও পোড়ার চর এলাকার প্রায় ৪শ’ পরিবার আকস্মিকভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে বোচাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা কবলিত এলাকার ৩৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৪টি উপজেলার প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং পানিবন্দী নিরাশ্রয় মানুষের জন্য ৬৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্যা কবলিত ৪ উপজেলায় ২৪০ মে. টন চাল, নগদ ২ লাখ টাকা, ২ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কাপাসিয়া ইউনিয়নে বন্যা দুর্গত ১শ’ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার ও বেলকা ইউনিয়নে ১শ’ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩শ’ ৩০টি পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি চাল এবং ৩০ পরিবারকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। শুকনো খাবারের মধ্যে ছিল মিনিকেট চাল, সোয়াবিন তেল, মসুর ডাল, লুডুলস, চিনি ও লবণ ইত্যাদি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৭৮ সে.মি, তিস্তার ২২ সে.মি এবং ঘাঘট নদীর পানি ৫৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে করতোয়া নদীর পানি এখনও বিপদসীমার সামান্য নিচে রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি জানানঃ সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে। ১৫ স্থানে ফাটল ধরায় হুমকির মুখে পড়েছে শ্রীপুর-সুন্দরগঞ্জ মুখী বন্যা নিয়ন্ত্রন বেরি বাঁধ।
গত ৯ দিন থেকে একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির ঢলে উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বেলকা, হরিপুর, কাপাশিয়া, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, শান্তিরাম ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন। সরকারি ভাবে পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পরিবার পরিজন, গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বেরি বাঁধ ও উঁচু স্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জ্বালানী না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানসহ সমুদয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গাইবান্ধা পাউবো কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ২৯.৪০ সে.মি ও ঘাঘট নদীর পানি ২২.২৬ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাউবো’র এসডি সেলিম হোসেন জানান, হুমকির মুখে পড়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বেরি বাঁধের ভাঙ্গন ঠেকাতে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্ল্যাহ্ জানান, তার ইউনিয়নে ৫ সহ¯্রাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। এ পর্যন্ত পাওয়া ত্রাণ সামগ্রী চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৫’শ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। কিন্তু পানি বন্দির সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জানান, বন্যার পানিতে ১০০ হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা ৮০ হেক্টর, সবজি ৮২ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ১০ হেক্টর জমির পাট ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন-অর রশিদ জানান, চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বন্যার পানি ঢোকায় ৪২ টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার ইয়াকুব আলী মোড়ল জানান, বন্যা কবলিত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্বাস্থ্য সেবা টিম কাজ করছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারিরা বন্যায় আশ্রয় গ্রহণকারীদের কাছে যাচ্ছেন এবং স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন। এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোলেমান আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকলেও তাদের মাঝে এ পর্যন্ত ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে ৩’শ ৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৭০ মে.টন চাল বরাদ্দ পেয়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া একশ মে.টন চালের জরুরী বরাদ্দ চেয়ে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com