সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১০ অপরাহ্ন

গাইবান্ধার বন্যার পানি ধীর গতিতে হ্রাস পেলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

গাইবান্ধার বন্যার পানি ধীর গতিতে হ্রাস পেলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি ধীর গতিতে হ্রাস পেলেও করতোয়া নদীর পানি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ এলাকায় বাঙালী নদীর পানি তোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি সংকট, স্যানিটেশনের অব্যবস্থা, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গত দু’দিনে গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ সুগার মিল এলাকায় মনু মিয়ার মেয়ে মুন্নি (৭) ও সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের জাহেদুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতী খাতুন (১০) মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৩শ’ ৮৩টি গ্রামের ৪ লাখ ৮৫ হাজার সাড়ে ৩শ’ লোক এবং ৪৪ হাজার ৭শ’ ৯২টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৮০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭৪ হাজার ১শ’ ৪ লোক আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া আরও জানানো হয়, বন্যায় ৫শ’ ৭৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ২৩৫ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩ কি.মি. বাঁধ, ২১টি কালভার্ট এবং ১০ হাজার ৮শ’ ৩৩ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তদুপরি ১শ’ ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২শ’ ৬৪টি মাদ্রাসায় পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় ডোবা পুকুরগুলো ডুবে যাওয়ায় ২ হাজার ৯শ’ ৪১টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১২৯ সে.মি এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া করতোয়া নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৩ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি জানানঃ গোবিন্দগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়ন সংলগ্ন চরবালুয়া নামক স্থানে বাঙ্গালী নদী রক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এর ফলে উপজেলার হরিরামপুর, রাখালবুরুজ, শিবপুর, নাকাই, তালুককানুপুর, মহিমাগঞ্জ, শালমারাসহ নতুন করে কামারদহ, কোচাশহর ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের মওসুমি ফসল সহ আমন বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৫৭০ হেক্টর জমির বীজতলা, ৩৬০ হেক্টর জমির রোপা আউশ, ১২০ হেক্টর জমির পাট এবং ৯০ হেক্টর জমির শাকসবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, বন্যার পানি প্রবেশ করায় ও আশ্রয় কেন্দ্র খোলার কারণে ৩১টি বিদ্যালয়ের পাঠ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, বন্যার্তদের জন্য এ উপজেলায় সরকারীভাবে মোট ৩৫ মেঃটন চাল ও এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পৌর শহরের কুঠিবাড়ি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোলাপবাগ দাখিল মাদ্রাসায় আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরন করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকার। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রধান আতাউর রহমান বাবলু, পৌর কাউন্সিলর রিমন কুমার তালুকদার, জোবাইদুর রহমান বিশা, গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান প্রধান টুকু, মহিলা কাউন্সিলর গোলাপী বেগম, মারুফা বেগম,জহুরা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব আবু হেনা আসাদুজ্জামান রানু, পৌরসভার সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেন আকন্দসহ অন্যান্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ান করুন

© All Rights Reserved © 2019
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com